নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার মুনিরাকে (১৮) খুন করে মাটির নিচে লাশ পুতে রাখে বাবা খোরশেদ আলম। সাতদিন নিখোঁজের পর শিবপুর উপজেলার শেরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে খোরশেদ আলমের বাড়ি থেকে মাটি খুঁড়ে কলেজ ছাত্রী মুনিরার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানায়, নরসিংদী ইমপিরিয়াল কলেজের এইচএসসি ২য় বর্ষের শ্রেণীর ছাত্রী মুনিরা আক্তারকে সোমবার রাতের কোনো এক সময় তার নিজঘরে কে বা কারা হত্যা করে ঘরের ফ্যানে লাশ ঝুলিয়ে রাখে। সে খোরশেদ আলমের চতুর্থ কন্যা ছিল। পরে বাড়ির পাশে রাতের অন্ধকারে নিহতের বাবা খোরশেদ আলম ও ভাই সোহেল লাশটি গুম করার উদ্দেশ্যে মাটিতে পুঁতে রাখে। পুলিশ জানিয়েছে, গত সোমবার থেকে মুনিরা নিখোঁজ ছিল। রোববার বিকালে তার বড় বোন নাদিরা বেগম পাশের বাড়ির খাদিজা বেগমের সঙ্গে আপসোস করতে পরিবারের নেক্কার জনক ঘটনাটি বলে দেয়। আড়ালে গিয়ে ঘটনাটি খাদিজা এলাকার ইউপি মেম্বার আমির চাঁন মিয়াকে জানায়। আমির চাঁন মিয়া বলেন, সন্ধ্যায় বিষয়টি শিবপুর থানায় জানানো হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি খুরে লাশ উদ্ধার করে।

নিহতের স্বজনরা আরো জানান, মুনিরা আক্তারের সঙ্গে বাড়ির পাশে বিল্লাল মিয়ার টেক্সটাইল মিলের ম্যানেজার নোবেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই অভিযোগে মুনিরাকে নিজঘরে হত্যা করে তাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে বাবা খোরশেদ আলম ও ভাই সোহেল। এরই অংশ হিসেবে লাশটি গুম করার লক্ষ্যে বাড়ির পাশে নির্জন স্থানে গর্ত করে রাতের অন্ধকারে লাশটি মাটিচাপা দেয়া হয়।

মুনিরা আক্তার নিখোঁজের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন সৃষ্টি হলে গতকাল বিকেলে লাশ গুমের বিষয়টি প্রকাশ পায়। পরে এলাকার ইউপি সদস্য শিবপুর থানা পুলিশকে খবর দিলে এসআই আমিনুল হকের নেতৃত্বে মাটির নিচ থেকে নিহত কলেজ ছাত্রী মুনিরার লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

এস আই আমিনুল হক বলেন, 'আমরা লাশটি উদ্ধার করেছি। এখন ময়না তদন্ত হবে। আর ময়না তদন্তেই বেরিয়ে আসবে তাকে হত্যা করা হয়েছিল না সে আত্মহত্যা করেছে। বিকালে পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে খোরশেদ আলম পালিয়ে যান। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি বলেও জানান ইউপি সদস্য।

জেড