বগুড়া,শেরপুর ও যশোর জেলায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে চারজন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়ায় চরমপন্থী দলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুইজন এবং শেরপুর ও যশোরে পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুইজন নিহত হয়েছে।
বগুড়া:
বুধবার (০৭ আগস্ট) বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর বাজার সংলগ্ন ব্রিজের ওপর রাত দেড়টার দিকে চরমপন্থী দলের (সর্বহারা) দুই পক্ষের কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুইজন নিহত হয়েছেন।
ঘটনাস্থল থেকে ১টি পিস্তল, ১টি ওয়ান শাটার গান, ৮ রাউন্ড গুলি, ২টি চাপাতি ও ৩টি দলীয় পোস্টার উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহতরা হলেন- গাইবান্ধা সদরের কাঁচদহ গ্রামের মন্টু সরকারের ছেলে ডাকাত ধনেশ ওরফে সুকুমার সরকার (৩৮)ও নাটোরের সিংড়া উপজেলার বামিহাল গ্রামের রজব আলীর ছেলে সর্বহারা আফজাল হোসেন (৫৫)।
পুলিশের দাবি, নিহতদের মধ্যে ধনেশ ওরফে সুকুমার সরকার পেশাদার ডাকাত এবং আফজাল হোসেন পূর্ব বাংলার কমিউনিষ্ট পার্টির (সর্বহারা) সক্রিয় সদস্য। দেশের বিভিন্ন থানায় আফজালের নামে ২০টি ও ধনেশের নামে ১১টি মামলার খোঁজ পাওয়া গেছে।
বুধবার সকালে বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী জানান, রাত দেড়টার দিকে শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর বাজারের পূর্বপামের ব্রিজের ওপর দুদল সন্ত্রাসীর গোলাগুলি চলছিল।
এ সংবাদ পেয়ে তিনি, শেরপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান, শেরপুর থানার ওসি হুমায়ুন কবির ও টহল পুলিশের দল ঘটনাস্থলে যান।
সেখানে ধনেশ ওরফে সুকুমার সরকার ও আফজাল হোসেনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শেরপুর:
শেরপুর সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের ধোপাঘাট এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক যুবক নিহত হয়েছেন।
এ সময় জেলা গোয়েন্দা শাখার এএসআই আরিফুল হকসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।
আহতরা শেরপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। নিহত যুবকের মরদেহ জেলা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বুধবার বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে।
যশোর:
এদিকে বুধবার (৭ আগস্ট) রাতে যশোর সদর উপজেলার মাহিদিয়া এলাকার কাজলের ইটভাটা এলাকায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে শিশির ঘোষ (৩২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে।
এসময় ঘটনাস্থল থেকে বোমা, একটি ওয়ান শুটার গান ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ।
শিশির যশোর শহরের ষষ্ঠীতলা এলাকার নিত্য ঘোষের ছেলে। সে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে কোতায়ালি থানায় হত্যা, চাঁদাবাজিসহ ১৬ মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৬ আগস্ট রাতে শহরের শংকরপুর মুরগির ফার্ম এলাকা থেকে শিশিরকে আটক করে পুলিশ। আটকের পর তাকে নিয়ে অভিযানে বের হয় পুলিশ। ভোর ৪টার দিকে সদর উপজেলার মাহিদিয়ার কাজলের ভাটা এলাকায় পৌঁছালে শিশিরের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। দুই পক্ষের গোলাগুলি সময় শিশির গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পুলিশের দুই সদস্য আহত হন।
এসএম





