সিলেট সিটি করপোরেশেনে খাবার পানির জন্য চলছে দুর্ভোগ। নগরীর বেশিরভাগ এলাকায় খাবার পানির সংকট। বিদ্যুৎবিভ্রাট বেড়ে যাওয়ায় করপোরেশন পরিচালিত নলকূপ ও পাম্পগুলোও ঠিকমতো সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না, এ দাবি অনেকের। দুর্ভোগে অতিষ্ঠ হয়ে পানি সরবরাহের দাবিতে নগরীতে মোট ৬টি পানির পাম্পে তালা দিয়েছে উত্তেজিত জনতা।
গত ১০ দিন ঘরে নগরীর রায়নগর, দর্জিবন্দ, ঝেরঝেরিপাড়া, কাজিটুলা, লাক্কাতুড়া, টিলাগড়, টিভি গেইট, শাহী ঈদগাহ, ঝর্নারপাড়, রাজবাড়ি, সোনাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি দিচ্ছে না সিসিক। ফলে ওইসব এলাকায় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
শাহী ঈদগার বাসিন্দা খালিদ আহমদ জানান, গত ১০ দিন থেকে তাদের এলাকায় পানি নেই। তাই তারা সোমবার নগরীর শাহী ঈদগাহ, শাহ্ মিরাজ, কাজিটুলা, লাক্কাতুড়া, টিভি গেইটে দুইসহ মোট ৬টি পানি পাম্পে তালা দিয়েছেন।
কাজিটুলার গৃহিণী হুসনা বেগম জানান, গত ১০ দিন থেকে তাদের ঘরে খাবার পানি দিচ্ছে না সিসিক। এতে তাদের বাইরে থেকে পানি কিনতে হচ্ছে।
টিলাগড়ের মাইশা নামের আরেক গৃহিণী বলেছেন, ‘বিগত কয়েক দিন থেকে আমাদের বাসায় খাবার পানি আসছে না। শুনেছি সিসিকের বসানো পাম্পে পানি নেই। আমাদের বাইরে থেকে পানি কিনে চলতে হচ্ছে।’
সিসিক সূত্র জানায়, সিলেট নগরীতে প্রতিদিন খাবার পানির চাহিদা রয়েছে ৮ কোটি লিটার। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে সিটি করপোরেশনের একটি শোধনাগার ও ৩০টি পাম্প দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহ সম্ভব হয়। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যুৎবিভ্রাটের কারণে ৫ কোটি লিটার পানিও সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
সূত্র আরো জানায়, গরম শুরু হতে না হতেই সিলেট নগরীর প্রায় সকল মসজিদে এসি চালানো শুরু হয়েছে। এ ছাড়াও বাসা বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসি চালানো হয়ে থাকে। এতে লোড নিতে না পেরে বিভিন্ন এলাকার সঞ্চালন লাইন ও ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়ে। এর প্রভাব পড়ে পানি উত্তোলনে। বিদ্যুৎ না থাকলে বন্ধ রাখতে হয় সিসিক’র পাম্পগুলো। এতে পানি সংকট আরও প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্ষুব্ধ জনতা
সিসিকের পানি শাখার প্রকৌশলী আলী আহমদ জানান, বিদ্যুৎবিভ্রাট বেড়ে যাওয়ায় সিটি করপোরেশন পরিচালিত নলকূপ ও পাম্পগুলো ঠিকমতো সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
সিসিক’র প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘এমনিতেই নগরীর চাহিদার অর্ধেক পানিও সরবরাহ সম্ভব হয় না। এর মধ্যে বিদ্যুৎবিভ্রাটের কারণে পাম্পগুলো বন্ধ থাকায় পানির সংকট আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। কোথাও কোথাও পাম্প বিকল হয়ে পড়ছে। এগুলো মেরামত করে পুনরায় পানি সরবরাহ শুরু না করা পর্যন্ত লোকজনকে দুর্ভোগ পোহাতে হবে।’
সিসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব বলেছেন, চাহিদা অনুযায়ী পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এরপরও ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, উৎপাদক নলকূপ ও পাম্প দিয়ে সর্বোচ্চ পানি সরবরাহের চেষ্টা চলছে। বিদ্যুৎবিভ্রাটের কারণে কিছু এলাকায় পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এর জের ধরে পাম্প হাউসে কিছু লোক তালা দিয়েছে।’
পাম্পে তালা দেয়াকে ‘গর্হিত কাজ’ বলে অভিহিত করেন এনামুল হাবীব। যারা পাম্প হাউসে তালা দিয়েছেন তদন্তসাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এমই





