‘বাংলাদেশের জনগণ কাশ্মীরীদের পাশে থাকবে। আমরা তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’ বলেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ঢাকা মহানগরীর আরিম আল্লামা নূর হোসেন কাশেমী।

ভারতের আগরতলায় বিমানবন্দর নিয়ে তিনি বলেন, আগরতলা বিমান বন্দর সম্প্রসারণে এক ইঞ্চি জমিতে হাত দেয়ার অধিকার নেই ভারতের। যে কোনো অবস্থায় দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেয়ার সুযোগ দেয়া হবে না।

গতকাল (১৭ আগস্ট) শুক্রবার বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর প্রান্তে ‘সর্বদলীয় কাশ্মীর সংহতি ফোরাম’ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে আল্লামা কাশেমী এইকথা বলেন।

সর্বদলীয় কাশ্মীর সংহতি ফোরামের আহবায়ক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ -এর মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলামীর নেতা বলেন, “আমাদের এই আওয়াজ কাশ্মীরীদের সাহস জোগাবে। আমরা তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। আমরা চাই সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ ফেরত আনা হোক। না হলে কাশ্মীরের জনগন স্বাধীনতার আন্দোলন শুরু করুক। বাংলাদেশের জনগণ তাদের পাশে থাকবে। আমরা তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। আমাদের প্রতিবাদ অব্যহত থাকবে।”

কি ধরনের সহযোগিতা করবেন? জবাবে নূর হোসেন কাশেমী বলেন, “এখন তো আমরা প্রতিবাদ করছি। এই প্রতিবাদ অব্যাহত রাখব। সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করব। পরে যদি কিছু করতে হয়, সেটা সময়ই বলে দেবে।”

সরকারের সঙ্গে এনিয়ে আলোচনা করেছেন কি-না?

জবাবে আল্লামা কাশেমী বলেন, “এখনও সরকারকে আমরা কিছু বলিনি। প্রয়োজন হলে বলব। বাংলাদেশের মানুষ কাশ্মীরের জনগনের সঙ্গেই আছে, থাকবে।”

‘সর্বদলীয় কাশ্মীর সংহতি ফোরাম’র আহবায়ক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরীর আমির আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, সহ-সভাপতি মাওলানা জুনাইদ আল-হাবিব, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের যুগ্ম-মহাসচিব অধ্যাপক তারেকুল হাসান মোস্তফা, বাংলাদেশ জনসেবা আন্দোলনের সভাপতি মুফতী ফখরুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, বাংলাদেশ ফরায়েজী আন্দোলনের মহাসচিব ডা. আজিজুর রহমান, খেলাফত মজলিসের মহানগর সভাপতি অধ্যাপক আজিজুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, নেজামে ইসলাম পার্টির সাবেক নেতা অধ্যাপক আব্দুল করীম ও মাওলানা ফয়সাল আহমাদ।  

সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিল করে কাশ্মীরের জনগণের স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেয়া হয়েছে। অনতিবিলম্বে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন ফিরিয়ে দিতে হবে। মজলুম কাশ্মীরের জনগণকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তা দেয়া হবে।

তিনি বলেন, আগরতলা বিমান বন্দর সম্প্রসারণে এক ইঞ্চি জমিতে হাত দেয়ার অধিকার নেই ভারতের। যে কোনো অবস্থায় দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেয়ার সুযোগ দেয়া হবে না। তিনি বলেন, আমরা মজলুমদের পক্ষে আর জালেমদের বিপক্ষে থাকবো ইনশাআল্লাহ।

মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী বলেন, ভারতের উগ্র-বর্বর হিন্দুরা কাশ্মীরের মেয়েদের দিকে বাঁকা চোখে তাকাচ্ছে। কাশ্মীরের মেয়েরা জীবন দিবে তবু তাদের ইজ্জত হরণ করতে দিবে না। তিনি বলেন, কাশ্মীরের সাংবিধানিক মর্যাদা ফিরিয়ে না দিলে মোদির ভারত টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। আগরতলা বিমান বন্দরের জন্য জমি দেয়ার পাঁয়তারা করা হলে লংমার্চ করে তা’প্রতিহত করা হবে ইনশাআল্লাহ।

মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব বলেন, ৭১ সালে যে কারণে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে সে কারণেই কাশ্মীরের স্বাধীনতা দিতে হবে। তিনি বলেন, আগরতলা বিমান বন্দরের জন্য এক ইঞ্চি জমিও দেয়া হলে বি-বাড়িয়ার ২৫ লাখ মানুষ নিয়ে মাঠে নেমে তা’প্রতিহত করা হবে।

এমবি