বড় ধরনের নাশকতা থেকে রক্ষা পেল চট্টগ্রাম। মঙ্গলবার নগরী ও জেলার বিভিন্নস্থানে নাশকতার পরিকল্পনা ছিল দুর্বৃত্তদের। মঙ্গলবারগভীর রাতে বিজিবির অভিযানে নগরীর টাইগার পাস এলাকায় ছয় পেট্রোল বোমাবাজ ধরা পড়ে। উদ্ধার করা হয় পেট্রোল বোমা ও ধারালো অস্ত্র। এই অভিযানের পর বিজিবি রাতভর অভিযানে জেলার মিরসরাই ও সীতাকুন্ডে আটক করে আরো ৯ বোমাবাজকে।
এছাড়া গতকাল মঙ্গলবার সকালে হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে ৬ জামায়াত-শিবিরকর্মীকে ২০টি পেট্রোল বোমা ও অন্যান্য সরঞ্জামসহ পুলিশ আটক করে।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, আটক জামায়াত-শিবিরকর্মীরা মঙ্গলবার যানবাহনে পেট্রোল বোমা মারার পরিকল্পনা করেছিল।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম শহরে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করা হয়। এই পরিকল্পনা করা হয় নগরীর খুলশী থানার টাইগার পাস এলাকার রেলওয়ে কলোনির বাসিন্দা মো. মুন্নার বাসায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই বাসায় মজুদ করা হয় পেট্রোল বোমা, ককটেল, রামদা, কিরিচ ও লোহার পাইপসহ অস্ত্রশস্ত্র।
মঙ্গলবার রাত ২টায় নাশকতার জন্য এসব অস্ত্র অন্য একটি গ্রুপের কাছে হস্তান্তর করার কথা ছিল। নাশকতার এই পরিকল্পনা জানতে পারে বিজিবি। চাওয়া হয় পুলিশের সহায়তা। এরপর বিকাল থেকে ওই বাসার ওপর সাদা পোশাকে নজরদারি শুরু হয়।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হয় মূল অভিযান। দক্ষিণ-পূর্ব রিজিয়নের দুই কর্মকর্তা মেজর সাব্বির আহমেদ এবং মেজর তানভীর মাহমুদের নেতৃত্বে বিজিবির ৩০ সদস্যের একটি দল অভিযানে অংশ নেয়। ধরা পড়ে ছয় দুর্বৃত্ত– এরা হলেন, জাহাঙ্গীর আলম, ওসমান গনি, আবুল কালাম, হারুন মিয়া, শরিফ খান ও মো. মুন্না। বাসা থেকে ৯টি পেট্রোল বোমা, ২টি ককটেল, ৭টি কিরিচ, ২টি রামদা, ৯টি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে গতকাল নগরীর হালিশহরে বিজিবি দক্ষিণ-পূর্ব রিজিয়ন সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। খুলশী থানা সূত্র জানায়, আটক মো. মুন্না যুবলীগ নেতা মুরাদের ভাই। মুরাদ কিছুদিন আগে নগরীর টাইগার পাস এলাকায় প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয়। আটক মুন্না সাংবাদিকদের বলেন, যুবলীগের একটি গ্রুপ তাকে ফাঁসানোর জন্য বাসায় পেট্রোল বোমা রেখে তাকে ধরিয়ে দিয়েছে। মেজর সাব্বির বলেন, মুন্না হচ্ছে আটক এই চক্রের রিংলিডার।
জেআই





