অসুস্থ গরুর মাংস খেয়ে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের গরুড়া দাইড়পাড়া গ্রামে ৫-৬ দিনে অন্তত ২০ জন অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিলেও প্রতিদিনই এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে গ্রামের লোকজন।

অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্তরা জানিয়েছেন, ১৮ ডিসেম্বর উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের গরুড়া দাইড়পাড়া গ্রামে জেকের আলী নামের এক কসাই নিজের অসুস্থ গরু জবাই করে গ্রামবাসীর মাঝে মাংস বিক্রয় করে। আর এ মাংস খেয়ে ওই গ্রামের শিশু নারী পুরুষের হাত-পাসহ শরীরে ক্ষত দেখা দেয়। যারা মাংস কেটেছে এবং মাংস নাড়াচাড়া করেছে তাদের শরীরের ক্ষত দেখা দেয়। যার ফলে গ্রামের সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ওই গ্রামের খবিরুল, নুরজাহান, আনিরা, লেকসার আলী, কোমর আলী, ডলিয়ারা, ফাইমা ও আরোজসহ অন্তত ১৯ জন চিকিৎসা নিয়েছে।

অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ডলিয়ারা খাতুন জানান, জেকের কসাইয়ের কাছ থেকে ৩ কেজি গরুর মাংস কিনে খাওয়ার পর তার নিজের ও ছেলের হাত-পাসহ শরীরে ঘা ও ক্ষত দেখা দেয়।

অ্যানথ্রাক্স রোগ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন।

তবে রোগীদের আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ ও অ্যানথ্রাক্স রোগ নির্ণয় করে মেডিক্যাল টিম গঠন করে চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রেখেছেন বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. রইস উজ জামান।

অপরদিকে দৌলতপুর প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা কাজী নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এসময়ে সাধারণত অ্যানথ্রাক্স রোগ হওয়ার কথা না। তারপরও এ রোগ দেখা দেওয়ায় তিনি ওই এলাকার পশুগুলোর টিকা দান কার্যক্রম শুরু করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি এলাকাবাসীকে আতংকগ্রস্থ না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এমএম