ভারতের কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনের ওপর সন্ত্রাসী হামলার হুমকি দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি ডাকযোগে পাঠানো একটি চিঠির মাধ্যমে এই হুমকি দেয়া হয়।

বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনের পক্ষ থেকে এই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করাসহ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী গ্রুপের হামলার হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের মিশনের চারপাশে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনার জকি আহাদ এ হুমকির বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে অবহিত করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী কোনও অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ঘটে কিনা সেদিকে নজর রাখার জন্যে পদস্থ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

খবরে আরও বলা হয়, বুধবার পান্দুয়াভিত্তিক একটি সংস্থার লেটারহেডে এই চিঠিটি দেয়া হয়, যাতে বলা হয়েছে যে, হিলি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ২০ জনের একটি জিহাদি গ্রুপ ভারতে প্রবেশ করেছে। তারা বাংলাদেশের এই কূটনৈতিক মিশনে হামলার হুমকি দিয়েছে। এই হুমকির পর ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন এবং দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

হুমকি সম্বলিত চিঠি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশন।

কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের এক কূটনীতিক শুক্রবার বলেছেন, ‘হামলার হুমকি সম্বলিত একটি চিঠি সপ্তাহখানেক আগে আমাদের ডেপুটি হাই কমিশনে ডাকযোগে পৌঁছায়। এ বিষয়টি আমরা ভারতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নোট ভারবাল দিয়ে জানিয়ে দিয়েছি। এ ব্যাপারে স্বাগতিক সরকার হিসাবে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে ভারত সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছি'।

ওই কূটনীতিক আরও বলেন,  যে ঠিকানা থেকে চিঠিটি এসেছে, পুলিশ তদন্ত করে দেখেছে তা একটি ভুয়া ঠিকানা। চিঠির লেটারহেডে লেখা রয়েছে, দারুল উলুম মাদ্রাসা, পান্ডুয়া, বর্ধমান।

পুরনো দিনের টাইপ মেশিনে টাইপ করা ৩/৪ লাইনের চিঠিতে যা লেখা রয়েছে, তার মূল কথা হলো, ২০ জন জঙ্গি পশ্চিমবঙ্গে ঢুকেছে। তাদের উদ্দেশ্য বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনে হামলা চালানো।

তবে কী কারণে হামলা চালানোর এই হুমকি দেয়া হয়েছে তার কিছুই চিঠিতে উল্লেখ নেই বলে ওই কূটনীতিক জানান।

এদিকে কলকাতায় বাংলাদেশের আরেক কূটনীতিক বলেছেন, বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনের দৃশ্যমান নিরাপত্তা অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে অদৃশ্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে কিনা জানি না।

এমবি