দুর্যোগ মোকাবেলায় ও দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে দক্ষতা উন্নয়নে সমতা ও মর্যাদাভিত্তিক অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের প্রায় ৩৪টি এনজিও।

আজ (বুধবার) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত ‘ওয়ার্ল্ড হিউম্যানিটারিয়ান সামিট উপলক্ষে বাংলাদেশি এনজিওদের অবস্থান: দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস এবং সাড়া প্রদানে স্থায়িত্বশীল দক্ষতা বৃদ্ধিতে সমতা এবং মর্যাদাভিত্তিক অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক একসেমিনারে এ দাবি জানানো হয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তামূলক কার্যক্রমে উদ্ভাবনী কৌশল চিহ্নিত করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়, কারণ দুর্যোগে বা প্রয়োজনে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বহুদিন ধরেই প্রায় একই ধরনের কৌশলে মানবিক বিভিন্ন সহায়তামূলক কর্মকাণ্ডপরিচালনা করা হচ্ছে। নতুন নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নতুন নতুন কৌশলের প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

উল্লেখ্য, আগামী ২০১৬ সালের মে মাসে জাতিসংঘের উদ্যোগে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড হিউম্যানিটারিয়ান সামিটকে সামনে রেখে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

আন্তর্জাতিক ঐ সামিট উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মতবিনিময় করা হচ্ছে, দক্ষিণ এবং মধ্য এশিয়ার মূল আলোচনাটি হবে আগামী জুলাইতে তাজিকিস্তানে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশের  ১৬টি জেলায় ৩৪টি এনজিও বিভিন্ন দুর্যোগের বিষয়ে প্রায় ৩৫০০ মানুষের মতামত সংগ্রহ করে ।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে এসডিআইয়ের আনেয়ারুল আজিম মাঠ পর্যায়ে থেকে প্রাপ্ত মতামত উপস্থাপন করেন। 

আর মাঠ পর্যায় থেকে প্রাপ্ত কয়েকটি মূল অভিজ্ঞতা হলো:  জাতীয় এনজিওগুলোকে উপ-ঠিকাদার না ভেবে অংশীদার ভাবতে হবে, জাতীয় পর্যায়ে তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রে  জাতীয় এনজিওর সঙ্গে আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর প্রতিযোগিতা করা ঠিক নয়, স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই দক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় এনজিওকে অর্থায়ন করতে হবে।

উপস্থাপনায় আরও উল্লেখ করা হয়, খরা, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং নদী ভাঙনের মতো ধীরে ঘটা দুর্যোগ বা ক্ষতির প্রতি দাতা সংস্থা তেমন নজর দিচ্ছে না। রেডক্রিসেন্টকে রাজনীতি থেকে মুক্ত করে তাদেরকে আরও বেশি দক্ষ করে তুলতে হবে। মানবিক সহায়তা কার্যকর করার জন্য সকল পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। জাতিসংঘকে জলবায়ু তাড়িত বাস্তুচ্যুতদের জন্য বিশেষ প্রোটোকল ঘোষণা করতে হবে।

দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল বলেন, আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি যে, ঘূর্ণিঝরের মতো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আমরা যথেষ্ট সক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছি। এখন আমাদেরকে ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি নিতে হবে।

ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমদ বলেন, এই ওয়ার্ল্ড হিউম্যানিটারিয়ান সামিটকে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে এবং এই বিষয়গুলোকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায়ও অর্ন্তভুক্ত করা উচিৎ।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষের কথাগুলো বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার জন্য এনজিওগুলোকে আরও বেশি সক্রিয় হতে হবে,কারণ এই দরিদ্র মানুষ তাদের দুর্দশার জন্য দায়ী নয়। জেরিমি ওয়ালার্ড বলেন,  বিশ্ব সামিটে বাংলাদেশে কথা তুলে ধরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই দেশটি দুর্যোগের ফলে তীব্র ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।

সেমিনারেরপ্রধান আয়োজক হলো আইএসডিআই, আশা, আরডিআরএস, উদ্দীপন, এফডিএ, এনডিপি, এসএসএস, এসকেএস, এসডিআই, ওরা, ওয়েভ ফাউন্ডেশন, কোস্ট ট্রাস্ট, টিএমএসএস, ডাক দিয়ে যাই, ডিএসকে, ঢাকা আহসানিয়া মিশন, দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থা, নিরাপদ, পল্লী মঙ্গল কর্মসূচী, পিদিম, পিরোজপুর গণ উন্নয়ন সমিতি, প্রদীপন, ব্র্যাক, রিক, সংকল্প ট্রাস্ট, সংগ্রাম এবং সাজেদা ফউন্ডেশন।

কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফ-এর সভাপতি ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমদ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘের ওসিএইচএ- এশিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধি জেরিমি ওয়ালার্ড।

সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন উদ্দীপনের ইমরানুল হক চৌধুরী, ডরপ’র এ এইচ এম নোমান, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন’র বদরুল আলম, পিদিম ফাউন্ডেশন’র এডভিন বরুণ ব্যানার্জি, দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার রফিকুল হক, ওআরএ-এর ফকির মাজহারুল ইসলাম এবং বাংলাদেশস্থ ওসিএইচএ-এর কাজী শহীদুর রহমান। 

কেবি