এলাকার আধিপত্য নিয়ে নরসিংদীর পলাশে যুবলীগ নেতাকর্মীরা তাণ্ডব চালিয়ে এক ইউপি সদস্যের বাড়িসহ শতাধিক ঘরবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় সফিক মিয়া নামে কেন্দুয়াব গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত এক বাসিন্দা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার পলাশ থানায় মামলা করেছেন। এছাড়া জেলা যুবলীগ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে জেলা যুবলীগের সভাপতি বিজয় কৃষ্ণ গোস্বামী ও সাধারণ সম্পাদক শামীম নেওয়াজ ওই কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা দেন।

বুধবার দুপুরে আধিপত্য নিয়ে ডাঙ্গা ইউনিয়নের কেন্দুয়াব গ্রামে ইউপি সদস্য বাদল মিয়ার বাড়িসহ শতাধিক বাড়িঘরে দুদফা হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালায় ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলু বাহিনীর লোকেরা।

দুদফা হামলায় দুই শিশুসহ আহত ২০ জন হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পলাশ থানা পুলিশ ৭ জনকে আটক করলেও আদালতে চালান করেছে ৫জনকে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ডাঙ্গা ইউনিয়নের যুবলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলু ও ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. বাদল মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কোন্দল চলে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ঈদের দু'দিন আগে ওই দু’গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে একটি দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

এরই জের ধরে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে দু'দফা নারকীয় তাণ্ডব চালায় যুবলীগ সভাপতি দেলুবাহিনীর লোকজন।

কেন্দুয়াব গ্রামে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কামাল হোসেন জানান, বাদল মেম্বার ও দেলুর দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে দেলু বাহিনীর সদস্য ডাঙ্গা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ফখরুল ও সাধারন সম্পাদক সেলিমের নেতৃত্বে হামলা চালায়।

হামলায় অংশ নেয় যুবলীগ সভাপতি দেলুর শালা বাবু, শুক্কুর আলী, বিল্লাল হোসেন, ইসমাইল ও কবিরসহ প্রায় দুই শতাধিক যুবক। তারা আমার কেন্দুয়াব বাজারের পাশে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসহ বাড়িঘরে হামলা চালায়।

এসময় তারা দোকান ও ঘরে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র ভাংচুর করে নগদ টাকা ও স্বর্ণ অলংকার লুট করে নিয়ে যায়।

এছাড়া সন্ত্রাসীরা একই এলাকার ফজলুল হক, শাহ আলম, মনির হোসেন, আরজু মিয়া, ইমান আলী, ছানা উল্লাহ, নারগিস মেম্বারনী, নুরুজ্জামান ও মিস্টারসহ শতাধিক বাড়িঘর ভাংচুর করে।

এসময় সন্ত্রাসীরা ঘরের ঢেউটিনের বেড়া রামদা, চাইনিজ কুড়াল ও হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে ভেঙে ফেলে।

হামলা শেষে ফিরে যাওয়ার সময় হামলাকারীরা ঘরে থাকা টেলিভিশন, স্বর্ণালংকার, নতুন কাপড় চোপড়সহ নগদ অর্থ নিয়ে যায়।

এ সময় তাদের এলোপাতাড়ি কোপে হাতেম আলী, শাফিয়া বেগম, আরহান নামে আড়াই মাসের শিশুসহ ২০জন গুরুতর আহত হয়। আহতরা নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এব্যাপরে ডাঙ্গা ইউপি সদস্য মো. বাদল মিয়া জানান, ডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলু এলাকায় রাম রাজত্ব কায়েম করার লক্ষ্যে আমার বাড়িসহ কেন্দুয়া গ্রামের শতাধিক নিরীহ মানুষের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। তার অত্যাচারে অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে গেছে।

অভিযুক্ত ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলুর মোবাইলে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।


জেলা যুবলীগ সভাপতি বিজয় কৃষ্ণ গোস্বামী বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে আমি ও আমার সম্পাদক শামীম নেওয়াজসহ জেলা যুবলীগ ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।

ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক ও নেক্কারজনক। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এর সঙ্গে যুবলীগের যেসব নেতাকর্মী জড়িত রয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবি করছি আমরা।

পলাশ থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওসি বলেন, মামলার পর ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় ৫ জনকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।