ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একরামুল হক হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নুর উদ্দিন ওরফে মিয়া (২৫) নামে যুবলীগের এক কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনীর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাশেদ খান চৌধুরী তাঁকে শহরের বারাহিপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতার হওয়া নুর উদ্দিন ফেনী পৌর এলাকার বিরিঞ্চি গ্রামের মৃত আবদুল আজিজের ছেলে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ফেনী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, একরাম হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জেলা জাতীয়তাবাদী তাঁতি দলের আহ্বায়ক মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী (মিনার), ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহিদ চৌধুরী, ফেনী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল্লাহ হিল মাহমুদ (শিবলু)। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৬ জন হত্যায় সম্পৃক্ততার বিষয়ে স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ আরও জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে চেয়ারম্যান একরাম হত্যার ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে জাহাঙ্গীর কবির আদেল ও জিয়াউল আলম ওরফে মিস্টারের নাম জানা গেছে। এ ছাড়া যুবলীগের স্থানীয় কর্মী ও পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ‘রুটি’সোহেলসহ আরও কয়েকজনের নাম জানা গেছে।

জাহাঙ্গীর কবির আদেল ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও জিয়াউল আলম মিস্টার ফেনী পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। পুলিশ এখনো তাঁদের গ্রেফতার করতে পারেনি।

মামলার বাদী চেয়ারম্যান একরামের ভাই রেজাউল হক জসিম সম্প্রতি অভিযোগ করেন, হত্যার পরিকল্পনাকারী হিসাবে যাঁদের নাম উঠে এসেছে, তাঁরা এখনো ফেনীতেই আছেন। কিন্তু পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করতে পারেনি। তাঁদের গ্রেফতার করা হলে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য ও আরও কোনো ব্যক্তি বা শক্তি এ ঘটনায় জড়িত ছিল কি না, সেটা জানা যেত।

ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) পরিতোষ ঘোষ জানান, হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট হিসেবে যাঁদের নাম জানা গেছে, তাঁদের সবাইকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তাঁরা অবশ্যই গ্রেফতার হবেন।

গত ২০ মে ফেনী থেকে ফুলগাজী যাওয়ার পথে শহরের একাডেমি এলাকায় চেয়ারম্যান একরামকে গুলি করে ও গাড়িসহ পুড়িয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

ঘটনার দিন রাতেই একরামের ভাই রেজাউল হক জসিম বাদী হয়ে বিএনপি নেতা মিনার চৌধুরীর নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ৩০-৩৫ জনকে আসামি করে ফেনী মডেল থানায় একটি মামলা করেন।

এ মামলায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের একজন ছাড়া অন্য সবাই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।

ঢাকা. ১০ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ // কেএইচ