খুলনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ও আ’লীগ নেতা শহিদুল ইসলামকে (৪৫) প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

বৃহস্পতিবার চারটার দিকে নগরের দৌলতপুর থানার যশোর-খুলনা মহাসড়কের পাশে ইসলামী ব্যাংকের সামনে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শহিদুল ইসলাম নগরের পাবলা এলাকার শওকত হোসেনের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ব্যক্তিগত গাড়িতে করে বেলা চারটার দিকে শহিদুল ইসলামী ব্যাংক এলাকার সামনে আসলে একদল সন্ত্রাসী শহিদুলের গাড়ির গতিরোধ করে গুলি করে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, নিহত শহিদুল আওয়ামী লীগের সমর্থক তবে সাংগঠনিকভাবে তাঁর কোনো পদ নেই। তাঁর ভাই শাহিন ২০১৩ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, শহিদুল নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় চারটি হত্যা মামলাসহ নয়টি মামলা আছে। তা ছাড়া অসংখ্য সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। দৌলতপুর থানার শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকায় ছিলেন শহিদুল। পুলিশের কাছে এত দিন সে পলাতক ছিল।

থানা সূত্রে জানা গেছে, শহিদুলের বিরুদ্ধে ১৯৯৮, ২০০০, ২০০৩ ও ২০০৪ সালে হত্যা মামলা রয়েছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ করেনি। তবে মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার মূল আসামি বেনু ও ফারুক নামের দুজনকে আটক করা হয়েছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আবদুল্লাহ আরেফ বলেন, আমরা শহিদুলকে হত্যার কারণ উদ্‌ঘাটন করতে পেরেছি। পুলিশের তৎপরতায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া দুই সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরার ব্যাপারে অভিযান অব্যাহত আছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আটককৃতদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, শহিদুলের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। যারা আটক হয়েছে তাঁরাও সন্ত্রাসী।

সূত্র: প্রথম আলো।

এআই