দ্রুতগতিতে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী নতুন ‘করোনাভাইরাসে’ আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছেই। চীনের হুবেই প্রদেশ থেকে ছড়িনো প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে সিঙ্গাপুরে আরও এক বাংলাদেশি প্রবাসী আক্রান্ত হয়েছেন।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এনিয়ে দেশটিতে মোট পাঁচ বাংলাদেশি নতুন করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ এই আক্রান্ত হলেন।
সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে চ্যানেল নিউজ এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সিঙ্গাপুরে নতুন করে আরও পাঁচজনকে কোভিড-১৯ এই আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজন দেশটির গ্রেস অ্যাসেম্বলি অব গড চার্চের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। একজন সেলেটার অ্যারোস্পেস হেইটস নির্মাণাধীন স্থাপনায় কর্মরত ছিলেন।
শনিবার নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ২৬ বছর বয়সী ওই বাংলাদেশির সিঙ্গাপুরের ওয়ার্ক পাসধারী। সম্প্রতি চীন সফরের ইতিহাস নেই তার।
তবে এর আগে সিঙ্গাপুরে যে চার বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন; তাদের সঙ্গে সেলেটার অ্যারোস্পেস হেইটসের নির্মাণাধীন স্থাপনায় কাজ করতেন নতুন করে আক্রান্ত ওই বাংলাদেশি।
নতুন করে পাঁচজনকে করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করায় দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৭২ জনে। দেশটির হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন এক রোগী সুস্থ হয়ে শনিবার বাসায় ফিরে গেছেন।
সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ১৮ জন চিকিৎসা শেষে পুরোপুরি সুস্থ হয়েছেন। তাদের সবাইকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া এখনও আর ৫৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অনেকের অবস্থা স্থিতিশীল অথবা উন্নতির দিকে। তবে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি সিঙ্গাপুরে প্রথমবারের মতো ৩৯ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশি ওই প্রবাসী সিঙ্গাপুরের এনসিআইডির আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর একদিন পর ১১ ফেব্রুয়ারি সেলেটার অ্যারোস্পেস হেইটসের নির্মাণাধীন স্থাপনায় কর্মরত আরও এক বাংলাদেশির শরীরে করোনার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।
পরে ১৩ ফেব্রুয়ারি ৩৭ ও ৩০ বছর বয়সী আরও দুই বাংলাদেশি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানায় সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সিঙ্গাপুরের ওয়ার্ক পাসধারী এ দুই বাংলাদেশিও সেলেটার অ্যারোস্পেসে কর্মরত ছিলেন।
এমবি





