কলকারখানা ও ট্যানারি বর্জে বিষাক্ত হচ্ছে এক কালের খরশ্রোতা ঠাকুরগাঁওয়ের শুক নদী। নদীর পানি বিষাক্ত হওয়ায় মাছ সহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর জীবন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।এই নদীটি সদর উপজেলার বুড়ি বাঁধ থেকে উৎপন্ন হয়ে চিলারং,আকচা,উত্তরহরিহরপুর,ইসলামনগর,বানিয়াপাড়া,হরিনারায়ন পুর এবং শ্রীকৃষ্টপুর গ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মিলিত হয়েছে টাংগন নদীতে।

এ পানি মিশে বিষাক্ত হচ্ছে এই নদীর পানিও বলে জানিয়েছে স্থাণীয় জনপ্রতিনিধি বাবুল ইসলাম। একেঁ বেকেঁ বয়ে চলা শুক নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে পড়েছে বাসা-বাড়ি,কল-কারখানা ও ট্যানারি বর্জ্যে। শহরের ড্রেন-নর্দমা থেকে দূষিত পানি ও ক্ষতিকর পদার্থ প্রবাহিত হয়ে পড়ছে শুক নদীতে ।

এতে মাছ সহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে। এ ছাড়া গৃহস্থালী,গোসল করতে পাড়ছেনা এলাকার মানুষ। আকচা গ্রামের ইদ্রিস আলী জানায় এক যুগ আগে এই নদীর পানি পারিবারিক ও সেচ কাজে ব্যবহার করত। এখন কলকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য নদীতে পড়ায় এ পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান সুব্রত কুমার বর্মন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,বিশেষ করে ঠাকুরগাঁও রোড় এলাকায় কয়েকটি ড্রেনের পঁচা ও বিষাক্ত পদার্থ নদীতে পড়ছে। ফলে নদীর পানি দুষিত হচ্ছে। 

শামিম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, এলাকায় অপরিকল্পিত ভাবে অটো রাইসমিল সহ বিভিন্ন কারখানা গড়ে ওঠেছে। এই প্রতিষ্ঠান গুলোর বর্জ্য নদীতে ফেলছে। এ ছাড়া পৌর শহরের ড্রেন গুলোর পঁচা ও দুষিত পদার্থ শুক নদীতে পড়ছে।

এই নদী টাংগন নদীতে মিলিত হওয়ায় টাংগন নদীর পানিও দূষিত হচ্ছে। এই নদীকে কেন্দ্র করে এলাকার শতাধিক জেলে জীবিকা নির্বাহ করত। মাছ মরে যাওয়ায় তারাও দিশেহারা হয়ে পড়েছে। হরিহর পুর গ্রামের জেলে নজরুল ইসলাম দুঃখ করে বলেন বংশ পরামপরায় তারা মাছ শিকার করে সংসারের খরচ মিটাছিল। কিন্তু নদীতে মাছ না থাকায় তারা বিপদে পড়েছে।

পরিবেশ বিজ্ঞানী ও ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বদিউজ্জামান সরকার এ বিষয়ে বলেন,নদীর পানি দূষিত হলে উভয়চর প্রাণী সহ প্রকৃতি ও মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়ছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল বলেন,নদী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সোহেল/নাজিব