চীনের উচাং শীপ ইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য দুটি আধুনিক করভেট ক্লাস যুদ্ধজাহাজ। এ উপলক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, ওএসপি, এনডিসি, পিএসসি নৌবাহিনীর জন্য নির্মিতব্য এই যুদ্ধজাহাজ দুটির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।

এসময় চীনে অবস্থানরত বাংলাদেশী দূতাবাসের ডিফেন্স এ্যাটাশে নাসিম আক্তার, চায়না শীপ বিল্ডিং এন্ড অফশোর কোম্পানির প্রেসিডেন্ট ইয়াং ঝিগাং (ণধহম তযরমধহম), বাংলাদেশ নৌবাহিনীর উধর্¡তন কর্মকর্তাবৃন্দ ও চীনের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

নির্মাণাধীন আধুনিক যুদ্ধজাহাজ (করভেট) দুইটির প্রতিটি দৈর্ঘ্যে ৯০ মিটার ও প্রস্থে ১১ মিটার যার ওজন প্রায় এক হাজার ৩৫০ টন। জাহাজদ্বয় ঘন্টায় ২৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম হবে।প্রতিটি জাহাজে

থাকবে মেরিটাইম হেলিকপ্টার বহনের জন্য হেলিপ্যাড। তাছাড়া জাহাজ দুইটিতে আরও থাকবে শত্র“ জাহাজ ধংসকারী সারফেস টু সারফেস মিসাইল, শত্র“ বিমান ধংসকারী সারফেস টু এয়ার মিসাইল এবং ৭৬ মিলিমিটার ও ৩০ মিলিমিটার আধুনিক গান।

আগামী ২০১৯ সাল নাগাদ যুদ্ধজাহাজ দুইটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে আশা করা যায়। যুদ্ধজাহাজ দুটি নৌবাহিনীতে অর্ন্তভুক্তির ফলে বাংলাদেশের বর্ধিত সমুদ্রসীমায় সার্বক্ষণিক নজরদারী ও উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানবপাচার, চোরাচালান রোধ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি জাহাজ দুটি বাংলাদেশের জলসীমায় মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষাও নিশ্চিত করবে।

যুদ্ধজাহাজ দুটির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন শেষে নৌবাহিনী প্রধান উচাং শীপ ইয়ার্ড সদর দপ্তর এবং চায়না শীপ ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার পরিদর্শন করেন। এছাড়া তিনি চায়না শীপ বিল্ডিং এন্ড অফশোর কোম্পানির উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে মত-বিনিময় করেন।

নৌবাহিনী প্রধানের এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের নৌবাহিনীর পারস্পরিক সুসম্পর্ক আরও বৃদ্ধি পাবে বলে প্রতীয়মান। পাঁচ দিনের এই সফর শেষে নৌপ্রধান আগামী ১২ আগস্ট ২০১৬ তারিখে দেশে ফিরবেন বলে আশা করা যায়।

এমবিএইচ