হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ট্রাকের সঙ্গে হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সংঘর্ষে সেনা কর্মকর্তা ও মা-ছেলেসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১৭ জন। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহতরা হলেন- সেনা বাহিনীর ল্যান্স করপোরাল আবু সাঈদ (৩০), সিলেট কানাইঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ পলাশের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মুর্শেদা বেগম (৪০), তার ছেলে মেহেদী (৪), ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি আরিফ মিয়া (৩০) এবং অন্য দু’জনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের জালালপুর বাজারে ইটবোঝাই একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ট ১৬-২৮৫৫) যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মহাসড়কের এক পাশে দাঁড় করিয়ে মেরামত করছিল। এ সময় ট্রাকটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় বেপরোয়া গতিতে আসা হানিফ পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ট- ১৪-৮৩১৯)। এতে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে প্রায় দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়।
ঘটনাস্থলেই শিশুসহ বাসের ৩ যাত্রী নিহত হয়। আহত হয় আরও ২০ জন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সেনা কর্মকর্তা আবু সাঈদ, মোর্শেদা বেগম এবং মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ছেলে মেহেদী মারা যায়।
দুর্ঘটনায় খবর পেয়ে শেরপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) নুরুন্নবী সরকারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ও নবীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। রাত প্রায় ১টার দিকে উদ্ধার কাজ সমাপ্ত হয়। দুর্ঘটনায় পরপরই মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশের সহযোগিতায় রাত ১টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শেরপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) নুরুন্নবী সরকার জানান, ঘটনার পরপরই বাসচালক পালিয়ে গেছে।
এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ পলাশের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মুর্শেদা বেগম ও তার ছেলে মেহেদীর মৃত্যু সংবাদ সিলেটে ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাত ৩টার দিকে সিলেটে হানিফ পরিবহনের কাউন্টার ভাঙচুর করে। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়।
কেএইচ, কেবি





