বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরিসহ আর্থিক খাতে ‘পুকুর চুরি’র দায় কে নেবে? এই রিজার্ভ চুরির দায় কে নেবে অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চাই।
সংসদে আজ বাজেট আলোচনায অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি। এসময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করছিলেন।
রওশন এরশাদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়েছে, এ দায় কার, অর্থমন্ত্রী দয়া করে এর উত্তর দেবেন ? সরকারি ব্যাংক থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা লুট হয়ে গেছে। এটা কার সাহায্যে হয়েছে। এই টাকা ফিরিয়ে আনার কি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়েছে এটা দেশের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। এ টাকা দেশের জনগণের টাকা। এই টাকা ফিরিয়ে আনাতে কি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে আমরা জানি না। উনি (অর্থমন্ত্রী) কি এর উত্তর দেবেন।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সমালোচনা করে রওশন বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। যদি বিশেষজ্ঞ না থাকে তাহলে এটা করা যাবে না। তিনি পারমানবিক কেন্দ্র নির্মানে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়ে বলেন, এটা চালাবে কারা? এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রাশিয়া সহায়তা দিচ্ছে।
আমরা জানি, রাশিয়া চেরোনোবিল পারমাণবিক কেন্দ্রে দুর্ঘটনার কথা। সেখানে শ্মশান হয়ে গেছে, সেখানে মানুষ নেই। রাশিয়া হয়তো ১০ বছর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানোর সহায়তা দেবে, তারপর কি হবে? জাপানে সুনামির কারণে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে লিকেজ দেখা দিয়েছিলো। পরে তারা সেটা বন্ধ করে দিয়েছে।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আমাদের এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে লিকেজ দেখা দিলে কে দেখবে? এটা হলে মানুষ আস্তে আস্তে মারা যাবে। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য কোথায় রাখা হবে? এর জন্য কি কোনো চুক্তি করা হয়েছে? এ ধরনের কোনো চুক্তি না করলে রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা যাবে না। এসময় শিক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলীয় নেতা। তিনি বলেন, জিপিএ ৫ পাওয়া ছেলে মেয়েরা ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করছে, তারা দেশের রাষ্ট্রপতি, রাজধানীর নাম বলতে পারে না। শিক্ষার মান বাড়ানো দরকার।
রওশন বলেন, দেশে সুশাসন নিচ্ছিত করা বিশেষ প্রয়োজন। আগের কোন সরকার কি করেছে তা বলে লাভ নেই, আমি অধম বলে কি আপনি উত্তম হবেন না ? গুম হত্যা বন্ধ করতে হবে ।
বাজেট কিভাবে বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, এ বাজেটে আয়ের যে লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে তা কিভাবে আদায় হবে ? দেশে এখনো অনেকেই আয় বেশী হলেও কর দেয় না। তাদের করের আওতায় আনতে হবে। তা ছাড়া অর্থলুটপাট বন্ধ করতে বিশেষ শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
এসময় রওশন বাজেটে কৃষি ও কৃষকসহ দরিদ্র মানুষের সুবিধার জন্য, শিল্প উন্নোয়নসহ এসকল খাতে কর কমানোর দাবি জানান। তিনি শিক্ষা ও স্বান্থ্য খাতে বাজেট বাড়ানোর দাবি জানান।
এমআর





