রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানার ৪ নং সেক্টরের সিকিউরিটি গার্ড লিয়াকত হোসেন লিটনকে(৩৮)  গুলি করে হত্যা ও জনৈক নারী অপহরণের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৯ টায় রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকা হতে সোহেলকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে গোয়েন্দা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার আদালতে পাঠালে সোহেল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে। বিয়ষটি নিশ্চিত করেছেন ডিএমডি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার(মিডিয়া)সাইদুর রহমান।

তিনি জানান, শফিক ওরফে আপনের অন্যতম সহযোগী সোহেল রানা ওরফে সোহেল । শফিক ওরফে আপন, রনি, আল আমিন, শিমুল ও সোহেল রানা একত্রে উত্তরা ৪নং সেক্টর থেকে নারী অপরহণ ও সিকিউরিটি গার্ড লিয়াকত হোসেন লিটনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নিজেকে সম্পৃক্ত করে দোষ স্বীকার করেছে। শফিক ওরফে আপনের গুলিতে সিকিউরিটি গার্ড লিয়াকত হোসেন লিটন নিহত হয় বলেও জানিয়েছে।

সে আরও জানায় যে, গত ৩ জুলাই রাত সাড়ে ৯ টায় তার সহযোগী রনি তাকে মোবাইলে ফোন করে কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের গোড়ায় যেতে বলে৷ সেখানে গিয়ে সে প্রাইভেট কারে শফিক ওরফে আপন, রনি, শিমুল ও আলামিনকে দেখতে পায়৷

তারপর তারা একত্রে এফ প্রিমিও প্রাইভেট কার যোগে প্রথমে গুলশান এলাকায় ছিনতাই এর উদ্দেশ্যে যায় এবং সেখানে একটি মেয়েকে গাড়িতে তুলে এবং সাংবাদিক পরিচয় দিলে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়৷

পরবর্তী সময়ে তারা উত্তরা এলাকায় ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে যায়৷ তারা উত্তরা পূর্ব থানাধীন ৪নং সেক্টর এলাকায় একটি সুন্দরী মেয়েকে দেখতে পেয়ে গাড়ি থামায়৷ তারা জোরপূর্বক ওই মেয়েটিকে গাড়িতে তোলার চেষ্টাকালে প্রতিরোধে কিছু লোক এগিয়ে আসে৷ তখন তাদের সহযোগী শফিক ওরফে আপন গুলি করে৷ অন্য একজন প্রতিরোধকারীকে সে নিজে চাঁপাতি দিয়ে আঘাত করে মেয়েটিকে নিয়ে গাজীপুরের কালিগঞ্জের দিকে নিয়ে যায়৷

তাদের দলনেতা আপন  গাড়ির মধ্যেই মেয়েটিকে শারীরিক নির্যাতন করে এবং অন্যরা পাহাড়া দেয় মর্মে জানায়৷ পরের দিন ভোর বেলা তারা মেয়েটিকে উত্তরা এলাকায় নামিয়ে দিয়ে যায়৷

অপহরণ প্রাক্কালে আপনের গুলির আঘাতে উত্তরা ৪নং সেক্টরের ৩নং রোডের ৬ নম্বর বাড়ির সিকিউরিটি গার্ড মোঃ লিয়াকত হোসেন লিটন নিহত হয়৷

ঢাকা, জেইউ, ১৫ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম