ঢাকায় বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় চলমান শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, অবরোধ ছড়িয়ে পড়েছে দেশব্যাপী।
এরই মধ্যে রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় শহরগুলো অবরোধ করে রেখেছে শিক্ষার্থী। যার কারণে আপাতত ঢাকাসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলো অচল বলা যেতে পারে।
এছাড়া বিভাগীয় শহরগুলোর পাশাপাশি নাটোর, বগুড়া, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, চাঁদুপুর জেলাসহ বিভিন্ন জেলার সাধারণ শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভ করছে।
ঢাকাঃ ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিশেষ করে বাহির থেকে ঢাকার ভিতরে ঢুকার পয়েন্টগুলো যেমন গাজীপুর, যাত্রাবাড়ী, মিরপুর গাবতলীতে শিক্ষার্থীরা অবরোধ করে রেখেছে।
এছাড়া শাহবাগ, ফার্মগেট, উত্তরা, আসাদগেট, সাইন্সল্যাব এবং মতিঝিলের মতো জায়গাগুলোতেও তারা অবস্থান নেয়। অবস্থানকালে তারা রাস্তাগুলোতে চলমান গাড়ীগুলোর লাইসেন্স চেক করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ গাড়ীগুলো পারাপারেও সহযোগিতা করছে।
রাজশাহী:
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা এসে নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেয়। ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে তারা শিক্ষার্থী হত্যার বিচার এবং সড়কে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীসহ সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে নগরীতে পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দেবে।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সরকারি সিদ্ধান্তে রাজশাহীর সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।
চট্টগ্রামে:
সকালে চট্টগ্রামের ওয়াসা মোড়, ষোলশহর এলাকায় নগরীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করছে। এর আগে চট্টগ্রামের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে ওয়াসা মোড়ে আসে। সেখানে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন যানবাহনের কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখে। শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি চলাকালে নগরীতে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। নিরাপদ সড়কের দাবির পাশাপাশি নিরাপদ যানবাহন, ক্ষতিগ্রস্ত দুই ছাত্রের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয় কর্মসূচি থেকে।
গত ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলার বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বাসের চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ ছাড়া আহত হয় বেশ কয়েকজন। নিহত শিক্ষার্থীরা হলো শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। আজসহ টানা পাঁচ দিন সড়ক অবরোধ করে তারা। আজ তাদের ডাকে সারা দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
জেড





