সীমান্ত অতিক্রম করে জেএমবি জঙ্গিদের ভারতে অনুপ্রবেশের সুনির্দিষ্ট তথ্য ভারতীয় সীমান্ত বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে নেই বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার মহাপরিদর্শক সন্দীপ শালুনকি।

রোববার (১৩ মার্চ) সুন্দরবনের রায়মঙ্গলে তিন নদীর মোহনায় বিএসএফ ও বিজিবির যৌথ অনুশীলনকালে ভাসমান স্থাপনায় দুই বাহিনীর প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

 

এসময় বাংলাদেশের পক্ষে বিজিবির দক্ষিণ পশ্চিম রিজিওন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফরিদ হাসান উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, বিএসএফ ও বিজিবি ভারত বাংলাদেশের এই বিশাল সীমান্ত পূর্ণ নজরদারিতে রেখেছে। আমরা সীমান্ত সন্ত্রাস দমনে সতর্ক রয়েছি।

সন্দীপ শালুনকি বলেন, ভারতীয় এলাকায় ফেনসিডিলের অবাধ ব্যবহার থাকলেও সাম্প্রতিককালে তা উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশে ফেনসিডিল পাচারের প্রবণতাও হ্রাস পেয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকাজুড়ে অবৈধভাবে যে সমস্ত ফেনসিডিল কারখানা গড়ে উঠেছিল তা গুড়িয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এ সময় বিজিবি ও বিএসএফের যৌথ টহলে মাদক, অস্ত্র এবং জালনোটসহ অন্যান্য সব ধরনের চোরাচালান শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিজিবির রিজিওন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার ফরিদ হাসান বলেন, ভারত থেকে বাংলাদেশে গবাদি পশুর চোরাচালান শতকরা ৭০ ভাগ হ্রাস পেয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে গরু আনার জন্য ভারতে যাওয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ গবাদি পশু পালনে আরও বেশি মনোযোগী হয়েছেন।

বাংলাদেশ সরকার এদের সহায়তা দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গবাদি পশুর মাংস এখন বাজারে অপেক্ষাকৃত সহজলভ্য দরে বেচাকেনা হচ্ছে।

যৌথ অনুশীলন পরবর্তী বিজিবি ও বিএসএফের প্রেস ব্রিফিংয়ে দুই বাহিনীর পক্ষে বলা হয়, সুন্দরবন অঞ্চলে দস্যুদের উৎপাত দমনে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শুধু দস্যুই নয়, সব ধরনের সীমান্ত অপরাধ দমনে আমরা একযোগে কাজ করে যাচ্ছি।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশ ঘটছে-এক ভারতীয় সাংবাদিকের এমন অভিযোগের জবাবে বিএসএফ এর সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার প্রধান তা নাকচ করে দিয়ে বলেন, এ ধরনের অভিযোগ সঠিক নয়।

এমন কোন তথ্য তার কাছে নেই উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, অনুপ্রবেশ, নারী ও শিশু পাচার বন্ধে বিজিবি ও বিএসএফ একযোগে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

সুন্দরবন এলাকায় তিন দিনব্যাপী যৌথ অনুশীলনের তৃতীয় দিন রোববার রায়মঙ্গল, ইছামতি ও কালিন্দী নদীর ‘টি’ জংশন এলাকায় ভাসমান বিএসএফ বিওপি কামাক্ষ্যায় এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

এর আগে বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যরা জাহাজে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী তল্লাশির মহড়া প্রদর্শন করেন।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিজিবির খুলনার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. ইকবাল, বিজিবির ৩৪ ও ৩৮ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার যথাক্রমে লে. কর্নেল মাকসুদ আহমেদ, লে. কর্নেল আরমান হোসেন ও আরবিজি অধিনায়ক লে. কমান্ডার রেদোয়ান।

অপরদিকে, বিএসএফের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএসএফের ৩ ব্যাটালিয়ন কমান্ড্যান্ট অজয় কুমার ও ১১৬ ব্যাটালিয়ন কমান্ড্যান্ট অজিত কুমার পি।

এআই