খাগড়াছড়ি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার রইছ উদ্দিনের উপর হামলার ঘটনায় জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি কুজেন্দ লাল ত্রিপুরা এমপি'র অনুসারী খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি বাবু কংজরী চৌধুরীসহ প্রায় শতাধিক আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলমের অনুসারি খাগড়াছড়ি সদর পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলম।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক মোহাম্মদ হান্নান জানান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মো. রইছ উদ্দিনের উপর হামলার ঘটনায় শুক্রবার রাতে খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল আলম বাদী হয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভপতি কংজরী চৌধুরীসহ ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামী করেছে।

গত বুধবার রাতে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলমের অনুসারি শুক্কুর আলীর উপর হামলা হয়। এ ঘটনার জেরে জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাসহ ১১জন আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীর নামে মামলা দায়ের করা হয়। এর আগে জেলা আওয়ামীলীগ নেতা, জেলা পরিষদের সদস্য নির্মলেন্দু চৌধুরীর উপর হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় বৃহসপতিবার রাতে সদর থানায় জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলম ও তার ছোট ভাই মেয়র রফিকুল আলমসহ ৩৮ জনকে আসামী করে মামলা করে আওয়ামীলীগের অপর গ্রুপ। এ নিয়ে শহরের পাল্টা-পাল্টি কর্মসূচী নিয়ে মাঠে সক্রিয় থাকে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপ।

এদিকে দায়েরকৃত পৃথক পৃথক মামলায় ৫জনকে আটক করেছে পুলিশ।

খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মো. মজিদ আলী বলেন, জেলার আইনশৃংখলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। প্রশাসন উভয় গ্রুপের সাথে বৈঠক করে সকল কর্মসূচীর স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছে। অনুরোধ রক্ষা না করলে পুলিশ সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নিবে। ।

উল্লেখ্য,বিগত পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়ে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগ। সেই থেকে পৃথক পৃথকভাবে দলীয় কর্মসূচী পালন করে যাচ্ছে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি ও জেলা আওয়ামীলীগ সেক্রেটারি জাহেদুল আলমের অনুসারীরা।

আবু বকর/নাজিব