রাজধানীর গুলশানের কালাচাঁদপুরে গারো সম্প্রদায়ের বেছেথ চিরান (৬৫) ও তার মেয়ে সুজাত চিরান (৪০) হত্যার পেছনে পুলিশের সন্দেহের আঙ্গুল সুজাতের ভাগ্নে সঞ্জীব চিরান ও তার তিন বন্ধুর দিকে।
পুলিশ জানায়, হত্যার দিন গত মঙ্গলবার বিকাল চারটার দিকে সঞ্জীব ও তার তিন বন্ধু কালাচাঁদপুরের ক-২৫ নম্বর বাড়ির চার তলার বাসায় প্রবেশ করে। প্রবেশের দুই ঘণ্টা পর তারা বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। পরে সুজাতের মেয়ের স্বামী পিলেস্তার বাসার দরজা বাইরে থেকে বন্ধ দেখতে পান এবং ঘরের ভেতর ঢুকে তিনি লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।
এ ঘটনায় গতকাল সুজাতের স্বামী আশীষ মানখিন বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় সঞ্জীব চিরান ও তার তিন বন্ধুকে আসামি করা হয়েছে।
গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সালাহ উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে হত্যার আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে। একাধিক ব্যক্তি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে আমরা ধারণা করছি। তিনি আরো বলেন, বাড়ির নিচতলায় থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, বিকাল চারটার দিকে সঞ্জীব তিন ব্যক্তিসহ বাসায় এসেছিলেন।
গতকাল সুজাতের স্বামী আশীষ মানখিন বলেন, সুজাতের বড় বোনের ছেলে সঞ্জীব চিরানের বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার মরিয়মনগর গ্রামে।
বেকার যুবক তার খালার কাছ থেকে টাকা পয়সা দাবি করছিল। এটা থেকেই হয়তো সঞ্জীব এই খুনের ঘটনা ঘটাতে পারে। গতকাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ সমাহিত করার জন্য ময়মনসিংহের হালুঘাটের জয়রামপুর চন্দ্রাঘাট গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের ময়নাতদন্তকারী চিকিত্সক প্রদীপ কুমার বিশ্বাস বলেন, সুজাত চিরানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তার গলাসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে ১৪টি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি মারা গেছেন। তার মা বেছেথ চিরানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশের গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার সিরাজুল ইসলাম বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সঞ্জীবকে আটক করতে পুলিশের অভিযান চলছে।
জেড





