টাঙ্গাইলে বিক্ষুব্ধ মানুষের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হওয়ার কারণ অনুসন্ধান ও দায়-দায়িত্ব নিরূপণের জন্য সাত কার্য দিবসের তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ পুলিশ।

শনিবার বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এআইজি (এমএন্ডপিআর) মোঃ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারপ্রাপ্ত আইজিপি মোঃ মোখলেছুর রহমানের নির্দেশে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। যেখানে অতিরিক্ত ডিআইজি (ডিসিপ্লিন) মোঃ আলমগীর আলমকে সভাপতি করে কমিটিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আক্তারুজ্জামান এবং টাঙ্গাইল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আসলাম।

উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, তিন সদস্যের ওই কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত কাজ শেষ করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে।

এদিকে, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মাহমুদুল হক নুরুজ্জামান জানান ওই ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার করে শনিবার বিকেলে টাঙ্গাইল পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, কালিহাতী উপজেলা সদরের সাতুটিয়া এলাকার মোজাফফর হোসেনের ছেলে রফিকুল ইসলাম ওরফে রোমার স্ত্রী হোসনে আরার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ঘাটাইল উপজেলার শ্রমজীবী আলামিনের (১৭) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কয়েক মাস আগে আলামিনের সঙ্গে পালিয়ে যায় হোসনে আরা। পরে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়।

এরপর গত ১২ সেপ্টেম্বর আবারো আলামিনের সঙ্গে পালিয়ে যায় হোসনে আরা। ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে রোমা ও তাদের পরিবারের লোকেদের আলোচনার কথা বলে আলামিন তার মা ও হোসনে আরাকে রোমাদের বাড়িতে ডেকে আনে। পরে বাড়ির উঠানে আলামিনকে বিবস্ত্র করেন রোমা ও তার ভগ্নিপতি হাফিজ।

এ সময় আলামিনের মাকেও বিবস্ত্র করা হয়। মারধরের পাশাপাশি আলামিনের মাকে ঘরে নিয়ে রোমা ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই ঘটনার বিচারের দাবিতে শুক্রবার স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতার মিছিলে হামলা করে পুলিশ।

সে সময় পুলিশ অবরোধকারীদের হটাতে লাঠিপেটা করে, প্রায় ৬০ রাউন্ড গুলি, রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছোড়ে। এতে এক নারীসহ ছয় ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া আরো প্রায় ৫০ জন আহত হন। পরে গুলিবিদ্ধ ছয়জনের মধ্যে তিনজন মারা যান।

এমআর/এমকে