আশির দশকেও অনেকেই ব্যবহার করতেন কাঠের পাদুকা বা খড়ম। এখন তেমন আর ব্যবহার দেখা যায় না। খড়মের ব্যবহারের ইতিহাস অনেক প্রাচীন। জানাযায় ১৩০৩ সালে বিখ্যাত সুফি দরবেশ ও পীর হজরত শাহজালাল (রহ.) তুরস্ক থেকে সিলেটে এসেছিলেন খড়ম পায়ে। তার ব্যবহৃত খড়ম এখনও তার সমাধিস্থল সংলগ্ন স্থাপনায় রক্ষিত আছে।

কিছুকাল আগেও খড়মের শব্দে গৃহস্থরা বুঝতে পারতেন তাদের বাড়িতে কেউ আসছেন। আধুনিকতার ছোঁয়ায় কাঠের তৈরি পাদুকা খড়ম এখন শুধুই স্মৃতি। কালের আবর্তে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কাঠের পাদুকা বা এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

চামড়া, রেকসিন, প্লাস্টিক, কাপড় ইত্যাদি দিয়ে তৈরি জুতায় এখন মানুষের আগ্রহ বেশি। পায়ে শোভাবর্ধনকারী এসব পাদুকার সঙ্গে বিগত কয়েক বছর ধরে জনপ্রিয় হয়েছে বার্মিজ জুতা।

কাঠ দিয়ে তৈরি খড়ম পরিবেশবান্ধব। তারপরও মানুষ সময়ের সাথে এটিকে পরিহার করে নতুন কে জায়গা দিয়েছে। সত্তরের দশক পর্যন্তও জনপ্রিয় পাদুকা ছিল খড়ম। তবে সে সময় পশুর চামড়ায় তৈরি জুতাও কম-বেশি ছিল। পরে যানবাহনের চাকায় ব্যবহৃত টায়ার ও টিউব কেটে তৈরি হয় এক ধরনের জুতা।

যার নামকরণ করা হয় টায়ার জুতা বা অক্ষয় জুতা। কালের ব্যাবধানে তাও আজ হারিয়ে গেছে। পরে আসে স্যান্ডেল। বর্তমানে বাহারি মডেলের স্যান্ডেলে বাজার সয়লাব। একটি কাষ্ঠ পাদুকা বা খড়ম তৈরি করতে অন্য জুতা বা বার্মিজের পাদুকার চেয়ে বেশি খরচও বেশি বলে।


নাজিব