বৃহত্তর ঢাকার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এসব এলাকায় প্রতিদিনই নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তবে ওপরের দিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি হ্রাস পেতে থাকায় বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে।
উজানের নদীর পানি ভাটির দিকে আসতে থাকায় বৃহত্তর ঢাকা ও ফরিদপুর অঞ্চলে পানি বাড়ছে। এর ফলে রাজধানী ঢাকার চার পাশের নদীতে পানি বাড়ছে গত দুই-তিন সপ্তাহ থেকে।
ইতোমধ্যে মিরপুরে তুরাগ নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শিগগিরই রাজধানীর চার পাশের অপর তিন নদী বুড়িগঙ্গা, বালু ও তুরাগ বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। বালু নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় এর সাথে যুক্ত খাল ও জলাশয় কানায় কানায় ভরে গেছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গার পানি হ্রাস পাচ্ছে এবং তা আগামী আরো কমপক্ষে তিন দিন হ্রাস পেতে থাকবে। মেঘনার পানিও হ্রাস পাচ্ছে। অপর দিকে পদ্মার পানি বৃদ্ধি এবং তা আরো দুই দিন বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবণতা রয়েছে।
বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার ফরিদপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী এবং বৃহত্তর ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে এবং অবনতি ঘটার এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এ ছাড়া কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধা, নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জ, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর ও টাঙ্গাইল জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে।
গতকাল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ১৭ পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এই ১৭ পয়েন্টে নদীর পানি ১০ থেকে ১০৪ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর মধ্যে আত্রাই নদীতে পানি সর্বোচ্চ ১০৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
বাহাদুরাবাদ, সারিয়াকান্দি, সিরাজগঞ্জ ও আরিচাঘাটে যমুনা নদী যথাক্রমে ৫২, ৮৮, ৩৭, ১৪ সেন্টিমিটার, এলাসীনে ধলেশ্বরী ৯১ সেন্টিমিটার, পদ্মা গোয়ালন্দ, ভাগ্যকূল ও সুরেশ্বরে যথাক্রমে ২৭, ২৫ ও ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। নেত্রকোনার জারিয়াজাঞ্জাইলে কংশ ৬৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বালুর সাথে বেগুনবাড়ি খাল (রামপুরা টেলিভিশনের পাশ দিয়ে পূর্ব দিকে মেরাদিয়া এলাকার ভেতর দিয়ে এ খালটি বালু নদীতে পড়েছে) এ খালটির পানি ভরে গিয়ে হাতিরঝিলের পানির সাথে মিশে গেছে। এ কারণে হাতিরঝিলের স্লুইটগেট বন্ধ করে দিয়ে দূর থেকে পাইপ দিয়ে আসা ময়লা পানি পাম্পিং করে বেগুনবাড়ি খালে ফেলতে হচ্ছে।
রামপুরার বনশ্রী আবাসিক এলাকার মূল সড়কের সামান্য নিচে অবস্থান করছে পানি। এ খালটি দিয়ে ঢাকার বিশাল অংশের ময়লা-দুর্গন্ধ পানি যায় বালু নদীতে। এ খালটির নিচের দিকে আবাসিক এলাকার অনেক ঘরবাড়িতে পানি উঠে গেছে। টিন দিয়ে তৈরি কাঁচা ঘরগুলোতে নোংরা ও কালো পানি প্রবেশ করে দুঃসহ পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড পর্যবেক্ষণ করে এমন ৮৩টি পয়েন্টের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত ৩৩ পয়েন্টে পানি বেড়েছে।
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, কেএ





