রাঙামটি জেলায় আওয়ামী লীগ থেকে গণহারে পদত্যাগ করছেন পাহাড়ি নেতাকর্মীরা। তাদের এ দলত্যাগ কারও চাপে নয়, এটি ক্ষোভ ও বঞ্চনার বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করেছেন পদত্যাগকারীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বিষয়টি স্পষ্ট করেছে।

এই গণপদত্যাগের পেছনে একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের চাপ রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা। তবে পদত্যাগকারীরা বলছেন, তারা কারও চাপে পদত্যাগ করছেন না। নিজেদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কারণে দলের সব কার্যক্রম থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিতে পদত্যাগপত্র জমা দিচ্ছেন।

তারা বলেন, আমরা খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। অথচ প্রায় সময় দলীয় সভা-সমাবেশে যোগ দিতে হয়। এতে আর্থিক ও পারিবারিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কেউ কেউ বলেন, সবকিছু না বোঝে দলে যোগ দিয়েছিলাম। নিজেদের স্বার্থের কথা ভাবিনি। কিন্তু এখন ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে খুব সমস্যায় পড়ছি। তাই নিজ নিজ পরিবারের স্বার্থ রক্ষায় বাধ্য হয়ে দলীয় কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি নিতে হচ্ছে।

বিলাইছড়ি উপজেলার সুজিত কুমার তঞ্চঙ্গ্যা ও চাই থোয়াই প্র“ রোয়াজা বলেন, তারা দলীয় কাজে সময় দিতে পারেন না। সময় দিতে গেলে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বার্থে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। তাই দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

কুসুমছড়ির জুলি চাকমা, মমতা, ঊষারানি চাকমা বলেন, আমরা সাধারণ খেটে খাওয়া কৃষিজীবী ও দিনমজুর। দিন এনে দিন খাই। কাজ না করলে ভাত জোটে না। দলীয় কাজে গেলে পরিবারের লোকজনকে না খেয়ে থাকতে হয়। তাই দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি। অন্যান্য উপজেলা থেকে পদত্যাগকারীরা একই অভিমত ব্যক্ত করেন।