তৃতীয় দফা সময় বৃদ্ধির পরেও কুষ্টিয়ায় সরকারের বোরো মৌসুমের চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। বর্তমান বাজার দরের চেয়ে সরকার নির্ধারিত ক্রয়মূল্য কম হওয়ায় মিলাররা চাল সরবরাহে চুক্তি করতে আগ্রহী হয়নি। এদিকে জেলায় চাল কেনার বরাদ্দ বাড়লেও লক্ষ্য পূরণ হয়নি।
জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার ৩২ টাকা কেজি দরে চাল কিনেছে সরকার। গত ২৪ জুলাই মন্ত্রণালয় থেকে বোরো চাল কেনার জন্য জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রকের কাছে চিঠি আসে। প্রথম পর্যায়ে আগস্ট মাসে ৮ হাজার ৫৪১ টন চাল কেনার জন্য ৫৮৮ জন মিল মালিক চুক্তি করেন। কিন্তু নানা জটিলতায় ৩০ আগস্ট পর্যন্ত চালের সরবরাহ তেমন পাওয়া যায়নি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে মন্ত্রণালয়ে চাল কেনার সময় বৃদ্ধির আবেদন করা হয়। দ্বিতীয় দফায় ১৫ অক্টোবর এবং তৃতীয় ও শেষ দফায় ৩১ অক্টোবর চাল কেনার সময় শেষ হয়। মোট ১৪ হাজার ৩ টন বরাদ্দের বিপরীতে প্রায় ৭ হাজার ৬৮৫ টন চাল কেনা হয়েছে। উপজেলা সদরে ১০ হাজার ১৭৯ টনের বিপরীতে কেনা হয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ টন। অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হলেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে খোলা বাজারে চাল বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এ জন্য অধিকাংশ মিল মালিক বরাদ্দের বিপরীতে চুক্তি করতে আগ্রহ দেখাননি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগের বছরগুলোতে বোরো চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয় জুনের দিকে। আগস্ট মাসে শেষ হয় সংগ্রহ অভিযান। কিন্তু এ বছর আগে ধান কেনা হয়েছে, যার ফলে চাল ক্রয়ের ব্যাপারটি পিছিয়ে যায়। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে চাল কেনার জন্য চিঠি পাঠানো হয়। গত ৪ আগস্ট সরকারের সাথে মিল মালিকদের চুক্তির কথা থাকলেও তারা ব্যাংকে জামানতের টাকা জমা দিতে পারেননি। ফলে চাল সংগ্রহ পিছিয়ে যায়।
স্থানীয় মিল মালিকরা জানান, এ বছর সরকার দেরিতে চাল কেনায় নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এখন ধান এবং চালের দাম অনেক বেশি। ধান কিনে চাল প্রস্তুত করে গোডাউনে দিয়ে লাভ করা কঠিন। বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন প্রধান বলেন, বাজারে এখন সর্বনিম্ন ৩৫-৩৬ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি হচ্ছে। প্রথম দফায় বাজারে চালের দাম কম থাকায় চালকল মালিকেরা চুক্তি করেছিলেন। কিন্তু চালের দাম বাড়ায় পরে কেউ চুক্তি করেননি। সদর উপজেলার খাদ্য কর্মকর্তা এ কে এম শাহ নেওয়াজ বলেন, চাল কেনার মেয়াদ আর বাড়বে না। খাদ্যগুদামে আর চালের সরবরাহ পাওয়া যাবে না। এখন নতুন করে চুক্তি করারও সুযোগ নেই। এবিষয়ে জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক স্বপন কুমার কু-ু বলেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় বরাদ্দ অনুযায়ী চাল কেনা সম্ভব হয়নি।
সবুজ/এআই





