নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে এক নওমুসলিমের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে নওমুসলিম মৃদুল ইসলামের (৩৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। রোববার সন্ধ্যার পর থেকে মৃদুল নিখোঁজ ছিল।

নিহতের পরিবারের দাবি চাঁদমারী এলাকার মফিজুল হাইটস নিলকমল নামের একটি ভবনে এসি মিস্ত্রির হিসেবে কাজ করতে গেলে ৪র্থ তলা থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত মৃদুল সিঙ্গার কোম্পানীর এসি মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতো।

মৃদুল ৪ বছর আগে সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করে ফরিদা আক্তার বণ্যা নামের এক মেয়েকে বিয়ে করে।

তাদের সংসারে মাবিয়া নামের একটি মেয়ে রয়েছে। নিহতের পিতা নারায়ণ চন্দ্র দাস ফতুল্লার ইসদাইরের কাপুইড়াপট্টি এলাকায় বসবাস করে।

জানা গেছে, মফিজুল হাইটস নিলকমল নামের একটি নির্মাণাধীন ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ডিগনিটাস ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ৫টি এসি লাগানোর কাজ নেয় মৃদুল।

রোববার সকালে সে একজন হেলপারকে নিয়ে এসি লাগানোর কাজ শুরু করে। স্কুলটির প্রহরী মোঃ শফিউদ্দিন জানান, রোববার সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত মৃদুল ও তার একজন সহকারী ৫টি এসির মধ্যে ২টি এসি স্থাপন করেছে। এরপর তারা চলে গেলে আমরা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেই।

নিহতের স্ত্রী ফরিদা আক্তার বণ্যা অভিযোগ করেন, মৃদুলকে হত্যা করা হয়েছে। রোববার এসি লাগানো নিয়ে মালিকের ভাগ্নের সঙ্গে তার তর্কাতর্কি হয়েছিল।

তাকে ৪র্থ তলা থেকে লিফটের করিডরে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ভবনটির মালিকের ভাগ্নেকে গ্রেফতারের দাবি জানান।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, মৃত্যুটি রহস্যজনক মনে হচ্ছে। সে কি কারণে ৪র্থ তলার ছাদে উঠেছিল সেটা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

লিফটের করিডরে থাকা রডের সঙ্গে আঘাতের চিহ্ন থাকলেও নিহতের শরীরে অন্য কোন আঘাতের চিহ্ন নেই। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ শহরের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসাপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।

এএইচ/এসএইচ