গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার প্রবীন সাংবাদিক ও দৈনিক করতোয়া পত্রিকার সাদুল্যাপুর উপজেলা প্রতিনিধি আনোয়ারুল ইসলাম শিক্ষকতায় ও সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ “শিক্ষা শান্তি পদক/২০১৫” মনোনীত হয়েছেন।

জুরিবোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ শিক্ষা পর্যবেক্ষক সোসাইটি কর্তৃক এই পদক প্রদান করবেন।

আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় রংপুর টাউন হল-এ বিশ্ব রেডক্রস দিবস উপলক্ষে 'রংপুর বিভাগের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রেক্ষাপট' শীর্ষক আলোচনা সভা, মেধাবী শিক্ষার্থী ও গুণিজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মধ্য সাংবাদিক আনোয়ারুল ইসলাম 'শিক্ষা শান্তি পদক' পাবেন।

বি.এস.পি.এস/২০১৫/০৫/০৪ স্মারক এর এক পত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

উল্লেখ্য, সাংবাদিক আনোয়ারুল ইসলাম মন্ডল গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলার বড় জামালপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মন্ডল পরিবারে ২৬ নভেম্বর’ ১৯৬৮ইং সালে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মৃত হামিদুর রহমান মন্ডল ওরফে খোকা মন্ডল, মাতা মোছা: ফজিতুননেসা বেগম, পিতামহ মৃত পন্ডিত হবিবর রহমান মন্ডল।

তিনি স্থানীয় জামালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণী পাশ করার পর সাদুল্যাপুর বহুমূখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৪ইং সালে কৃতিত্বের সহিত এস,এস,সি পাশ করেন এবং সাদুল্লাপুর ডিগ্রী কলেজ থেকে ১৯৮৭ইং সালে এইচ,এস,সি এবং ১৯৮৯ইং সালে বিএ (স্নাতক) ডিগ্রী লাভ করেন।

১৯৯৩ইং সনের মাঝামাঝি তিনি এক্সসেলসিয়র সুজ লি:, চট্রগ্রামে কিউ,সি আই পদে চাকুরীতে যোগদান করেন। চাকুরীর বাধাধরা নিয়ম তার ভাল না লাগায় তিনি ১৯৯৪ইং সালের নভেম্বর মাসে চাকুরীতে ইস্তফা পত্র দিয়ে নিজ গ্রামের বাড়ীতে ফিরে আসেন।

বেকার যুব সমাজকে কর্মসংস্থানে পরিনত করার মানসে এবং পল্লীর জনবহুল এলাকার নারী শিক্ষা বিস্তারের লক্ষে তিনি ১৯৯৪ইং সনে জামালপুর নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯৯৮ইং সনে উক্ত প্রতিষ্ঠানটিকে জামালপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নীত করেন।

তিনি উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসাবে কর্মরত আছেন। শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষে তিনি বি,এ বিএড পাশ করেন। উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল (জে,এস,সি ও এস,এস,সি) শত ভাগ শিক্ষার্থী পাশ করার গৌরব অর্জন করে।

মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম মন্ডল তার ছাত্র জীবন থেকেই লেখা-লেখির প্রতি প্রচন্ড ঝোক ছিল। তিনি ১৯৮৮সালে রংপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক দাবানল পত্রিকায় সাদুল্যাপুর সংবাদদাতা হিসাবে সাংবাদিকতা পেশায় জড়িয়ে পড়েন।

১৯৯৬ইং সনে দৈনিক দাবানল পত্রিকা ছেড়ে তিনি রংপুরের নতুন প্রকাশিত দৈনিক যুগের আলো পত্রিকায় যোগদান করেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি ২য় শ্রেণীর ঠিকাদারী পেশায় জড়িয়ে পড়লেও এ পেশা তার ভাল না লাগায় দু বছরের মাথায় ১৯৯৩ইং সনে এ পেশা থেকে হাত গুটিয়ে নেন।

১৯৯৭ইং সনের ২০ নভেম্বর তিনি দৈনিক যুগের আলো পত্রিকা ছেড়ে       দৈনিক করতোয়া পত্রিকায় সাদুল্যাপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসাবে যোগদান করে আজও কর্মরত রয়েছেন।

তিনি শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাদুল্যাপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বর্তমান প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ সভাপতি, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস) সাদুল্যাপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ স্কাউটস, সাদুল্যাপুর উপজেলা শাখার সম্পাদক ও উপজেলা শিল্পকলা একাডেমী সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন। তিনি দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক।

এমকে