ভাষাসৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও ঝিনাইদহের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) জে কে এমএ আজিজ (৯০) বার্ধক্যজনিত কারণে মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
শহরের হামদহের নিজস্ব বাসভবনে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর এমএ আজিজ মৃত্যুকালে তিন ছেলে-তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
প্রবীণ এ আওয়ামী লীগ নেতা ১৯২৮ সালের জানুয়ারি মাসে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার শৈলকুপা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্র জীবনেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। ১৯৫০ সালে কুষ্টিয়া সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর তিনি কুষ্টিয়া আওয়ামী ছাত্রলীগ সভাপতি হিসেবে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। সে সময় দুইবার গ্রেফতার হন এবং কারাভোগ করেন।
১৯৬৫ সালে তিনি ঝিনাইদহ (সাংগঠনিক জেলা) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধু দুইবার রাজনৈতিক সফরে আজিজের জেলা শহরের হামদহের বাসায় ৪-৫ ঘণ্টা সময় কাটান। সাংগঠনিক তৎপরতা ও নেতৃত্বের গুণে অল্পদিনেই তিনি বঙ্গবন্ধুর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এমএ আজিজ। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝিনাইদহ সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক ছিলেন তিনি। একপর্যায়ে নীরব অভিমানে ১৯৯০ সালের পর থেকে নিজেকে রাজনীতি থেকে গুটিয়ে নেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ এ নেতা। রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসিত এ রাজনীতিবিদের জীবনের শেষ দিনগুলো অনেক কষ্টে কেটেছে।
তার মৃত্যুতে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট, জেলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন শোক প্রকাশ করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমাবেদনা জানিয়েছেন।
জেআই





