নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে গত অর্থ বছরে বরাদ্দকৃত এলজিএসপির ৫টি প্রকল্প কাজে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ইউপি’র চেয়ারম্যান, সচিব, প্রকল্প সভাপতি ও ঠিকাদারসহ ৫ জনের নামে পৃথক ৫টি মামলা দায়ের করেছেন দূর্নীতি দমন কমিশন (দু’দক)।

মঙ্গলবার (৩০ মে) রাতে লোহাগড়া থানায় এ মামলা গুলি করেন যশোর দুদক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ শহীদুল ইসলাম। 

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে দ্বিতীয় লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি) ৫টি প্রকল্পের অধীনে লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে ৯ লক্ষ ৬৯ হাজার ১শ ৭৩ টাকা বরাদ্দ করে। বরাদ্দকৃত প্রকল্পের মধ্যে বসুপটি গ্রামের রবিউলের বাড়ি হতে মোল্যাপাড়া অভিমুখে ১৬০.৮ মিটার রাস্তা ইটের সোলিং দ্বারা উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত ১ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার মধ্যে ৬৭ হাজার ৪শ ৪৫ টাকার কাজ করে। বাকি ১ লক্ষ ২০ হাজার ৫শ ৫৫ টাকার কাজ না করে ইউপি সচিব নূরুল ইসলাম ও আ’লীগ নেতা চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান যোগসাজশে আত্মসাৎ করে।

বরাদ্দকৃত প্রকল্পের মধ্যে একই ইউপির শালবরাত গ্রামের টুকু শেখের বাড়ি অভিমুখে রাস্তা ইটের সোলিং দ্বারা উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত ১ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার মধ্যে ৬৮ হাজার ৭৪ টাকার কাজ হয়েছে। বাকি ১ লক্ষ ১৯ হাজার ৯শ ২৬ টাকার কাজ না করে ইউপি সচিব নূরুল ইসলাম ও লাইসেন্স বিহীন ঠিকাদার পিকুল যোগসাজশে আত্মসাৎ করে।

কাশিপুর ঈদগাহ হতে ইসমাইল খার বাড়ি অভিমুখে রাস্তার দু’পাশে মাটি দ্বারা উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত ২ লক্ষ ১৭ হাজার ১শ ৭৩ টাকার মধ্যে ৭৯ হাজার ৭শ ৬৪ টাকার কাজ করে। বাকি ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৪শ ৯ টাকার কাজ না করে ইউপি সচিব নূরুল ইসলাম ও রামপুর গ্রামের মৃত জব্বার শেখের ছেলে প্রকল্প সভাপতি এস এম আলমগীর কবির যোগসাজশে আত্মসাৎ করে।

এড়েন্দা আদিবাসী পাড়া হতে ফুটবল মাঠ অভিমুখে রাস্তা ইটের সোলিং দ্বারা উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত ১ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার মধ্যে ৬১ হাজার ২শ ৭৬ টাকার কাজ করে। বাকি ১ লক্ষ ২৬ হাজার ৭শ ২৪ টাকার কাজ না করে ইউপি সচিব নূরুল ইসলাম ও জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ঠিকাদার মঞ্জুরুল করিম মুন যোগসাজশে আত্মসাৎ করে।

ধোপাদাহ গ্রামের ইকতিয়ারের বাড়ির অভিমুখে রাস্তা ইটের সোলিং দ্বারা উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত ১ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার মধ্যে ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৬শ ৯৩ টাকার কাজ করে। বাকি ৪৪ হাজার ৩শ ৭ টাকার কাজ না করে ইউপি সচিব নূরুল ইসলাম ও ধোপাদাহ গ্রামের ঠিকাদার ইবাদুল শেখ যোগসাজশে আত্মসাৎ করে।

উল্লেখিত ৫টি প্রকল্পের কাজে মোট ৫ লক্ষ ৪৮ হাজার ৯শ ৭৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দূর্নীতি দমন কমিশন যশোর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মোঃ শহীদুল ইসলাম বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় ৫টি পৃথক মামলা দ্বায়ের করেন। এ ছাড়াও চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে জিআর,টিআর,কাবিখা,কাবিটা প্রকল্প ও ভিজিএফ এর চাল আত্মসাতের তদন্ত দুদকে চলমান রয়েছে। লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রিন্টু/জারিফ