নায়িকা সুচিত্রা সেনের পাবনার গোপালপুরের পৈতৃক বাড়ি ইমাম গাজ্জালি ইনস্টিটিউট থেকে দখলে নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

দীর্ঘ প্রায় তিন যুগ পরে বুধবার বেলা ১২টার দিকে সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীম আরা রিনির নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বাড়িটি দখলে নিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।

বাড়িটি দখলমুক্ত করতে প্রশাসন দীর্ঘ দিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসলেও আইনি জটিলতায় তা বার বার বাধাপ্রাপ্ত হয়।
পরিশেষে গত ১০ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে বাড়িটি দখলমুক্ত করায় কোনো বাধা আর থাকে না।

এ ব্যাপারে পাবনা জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দিন বলেন, “আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টায় বাড়িটি নিয়ন্ত্রণভার জেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করবে।”
পাবনার সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. রাম দুলাল ভৌমিক জানান, পাবনা শহরের গোপালপুর মহল্লার হেমসাগর লেনের এই বাড়িতেই কেটেছে মহানায়িকা সুচিত্রা সেনে শৈশব ও কৈশোর।

পাবনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়ে ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সপরিবারে পশ্চিম বাংলায় পাড়ি জমান তার বাবা করুনাময় দাশগুপ্ত। তিনি পাবনা পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ছিলেন।

পরবর্তীতে জেলা প্রশাসন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য বাড়িটি রিক্যুইজিশন করে। ১৯৮৭ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসন থেকে বাড়িটি বাৎসরিক চুক্তি ভিত্তিতে ইজারা নেন জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতারা।

রাম দুলাল আরও জানান, ১৯৯১ সালের ১৮ জুন ইমাম গাজ্জালি ট্রাস্ট বাড়িটি স্থায়ী বন্দোবস্ত নেওয়ার আবেদন করে। ওই বছরের অগাস্টে ভূমি মন্ত্রণালয় তাদের স্থায়ী বন্দোবস্ত না দিয়ে আবার বাৎসরিক ইজারা দেয়। পরে ইজারার টাকা পরিশোধ না করায় ১৯৯৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ইজারা বাতিল করা হয়।

কিন্তু জামায়াত নেতারা বকেয়া পরিশোধ করে ১৯৯৫ সালের ১৫ অগাস্ট আবার ইজারা নবায়ন করিয়ে নেন। তারপর থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল সুচিত্রা সেনের পৈত্রিক বাড়িটি।
পরে পাবনাবাসী বাড়িটি উদ্ধারের জন্যে আন্দোলন করলে কর্তৃপক্ষ তাদের ইজারা বাতিল করে। কিন্তু স্থানীয় জামায়াত নেতারা হাই কোর্টে রিট করে স্থিতাবস্থা জারি করে নিজেদের দখল বজায় রাখে।

২০১১ সালে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান সিদ্দিকী হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করলে বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ওই বছরের ২৬ জুলাই বাড়িটি পরবর্তী সাত কার্যদিবসের মধ্যে সরকারের দখলে নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
আদেশের পরদিনই (২৭ জুলাই) ইমাম গাজ্জালি ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মাওলানা আইয়ুব হোসেন খাঁন হাই কোর্টের আদেশের স্থগিতাদেশ চান এবং লিভ টু আপিল করেন। এ বছরের ৪ মে ইমাম গাজ্জালি ট্রাস্টের লিভ টু আপিল খারিজ হয়ে যায়।

পরে গত ১০ জুলাই চূড়ান্ত রায় স্বাক্ষরিত হওয়ায় জেলা প্রশাসন ইমাম গাজ্জালি ইনিস্টিটিউট অপসারণ করে বাড়িটি দখলে নেয়।

ঢাকা, ১৬ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই