‘নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিদের অদৃশ্য রাজনৈতিক শক্তির মাধ্যমে বাদ দেওয়া হয়েছে’ বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সাত খুনের মামলার বাদী নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী কাউন্সিলর সেলিনা ইসলাম বিউটিসহ নিহতদের স্বজনেরা এ অভিযোগ করেন।
একই সঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশে ওসি মামুনুর রশিদ মণ্ডলকে প্রত্যাহারসহ ঘটনার পুনঃতদন্তের দাবি এবং আদালতে দায়ের করা চার্জশিটের (অভিযোগপত্র) বিরুদ্ধে নারাজি দেওয়ারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দাবি আদায়ে নতুন করে আন্দোলন যাওয়ারও কথা বলা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পশ্চিমপাড়ার বুকস হাউজিং ভবনের তৃতীয় তলার নিজ বাসায় বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন সেলিনা ইসলাম বিউটি।
আলোচিত ওই ঘটনায় বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চাঁদনী রূপমের আদালতে চার্জশীট দাখিল করা হয়।
চার্জশিটে র্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক মোহাম্মদ সাঈদ, উপ-অধিনায়ক মেজর আরিফ হোসেন, লে. কমান্ডার এম এম রানা এবং ভারতে গ্রেফতার হওয়া নূর হোসেনসহ ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
আসামিদের মধ্যে র্যাবের সাবেক ওই তিন কর্মকর্তাসহ মোট ২১ সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া অব্যাহতি দেওয়া হয় এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামিকে।
সংবাদ সম্মেলেনে আরও উপস্থিত ছিলেন নিহত নজরুলের শ্বশুর সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম, নিহত তাজুল ইসলামের মা তাসলিমা বেগম, নিহত মনিরুজ্জামান স্বপনের ছোট ভাই মিজানুর রহমান রিপন প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী অভিযোগ করেন, মামলার ২ নম্বর আসামি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াসিন সিঙ্গাপুর থেকে লোকমারফত আমার কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল, তার নাম যেন এজাহার থেকে বাদ দেওয়া হয়। এ প্রস্তাবে রাজি হলে দুই কোটি টাকা এবং ১৫ শতাংশ জমি দেওয়া হবে।
নজরুলের শ্বশুর শহীদ চেয়ারম্যান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের ওলামা লীগের কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল্লাহ কাঁচপুরী তার মুঠোফোনে কল করে বলেন, তোদের টাকা সাধছিলাম। কিন্তু নেস নাই। ডিবি পুলিশ দিয়ে কাজ করিয়েছি। এখন পারলে ঠেকা।’
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় খান সাহেব ওসমান আলী জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিম অপহৃত হন। ওই ঘটনায় ২৮ এপ্রিল ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি।
জেআই





