জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে পুলিশ হেফাজতে আসামির মৃত্যুর ঘটনায় আজ মঙ্গলবার তিন সদস্যের তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। জামালপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নিজাম উদ্দিন এ তথ্য জানান।

নিজাম উদ্দিন জানান, জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফুল হককে তদন্ত দলের প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত দল গঠন করা হয়। তদন্ত দলের অপর দুই সদস্য হলেন জামালপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইউনুস আলী ও সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সদর সার্কেল আবদুল করিম।

৩০ মে প্রথম আলোতে ‘পুলিশ হেফাজতে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

মারা যাওয়া আসামির নাম আবুল হাসেম (৩৮)। তাঁর বাড়ি সরিষাবাড়ী পৌর এলাকায়। পুলিশের ভাষ্য, ওই আসামি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। আর পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের নির্যাতনে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এই তদন্ত দল গঠন করা হয়।

পুলিশ জানায়, স্ত্রী লাকী বেগম হত্যা মামলায় হাসেমকে ২৯ মে রাতে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতেই তাঁকে সরিষাবাড়ী নেওয়া হয়। ভোররাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

সরিষাবাড়ী থানার পুলিশের ভাষ্য, সরিষাবাড়ী এনে হাসেমকে থানাহাজতে রাখা হয়। তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তা টের পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করে ভোররাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মমতাজ উদ্দিন বলেন, হাসপাতালে আনার পর ভোর পাঁচটার দিকে হাসেমের মৃত্যু হয়। তাঁর গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

হাসেমের মা হাচু বেওয়া অভিযোগ করেন, পুলিশের নির্যাতনে তাঁর ছেলের মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত পয়লা বৈশাখ হাসেমের স্ত্রী লাকীর লাশ উদ্ধার করা হয়। লাকীর মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল সরিষাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা হয়। ওই মামলায় হাসেমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এমআর