বাগেরহাটের শরণখোলা থানা পুলিশের বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগ করেছেন উপজেলার জানেরপাড় গ্রামের গৃহবধূ ফাতেমা বেগম (২৮)।
শনিবার সকাল ১০টায় শরণখোলা প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এ অভিযোগ করেন।
লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, গত ১৪ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১১টায় শরণখোলা থানার এসআই মো. শফিউদ্দিন দুইজন কনেষ্টবলসহ ওই গ্রামের মহারাজ হাওরাদার, লিপন সরকার, ইসমাইল হাওলাদার, আবু হানিফ, জলিল হাওলাদার, জাকির হাওলাদার, শাসসুল হক ও রুহুল আমিনকে সাথে নিয়ে তাদের বাড়িতে ঘরের সামনের-পিছনের দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন।
তারা তার স্বামী মিন্টু হাওলাদারকে বেঁধে মারপিট করে। এসময় তারা ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে নগদ এক লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নেয়। ঘটনার সময় তাদের ডাক-চিৎকারে গ্রামবাসী এগিয়ে এসে শরণখোলা থানার অফিসার ইন চার্জকে ফোন দিলে পুলিশ ও তার সহযোগীরা দ্রুত পালিয়ে যান।
পরদিন তিনি এ ঘটনার অভিযোগ নিয়ে মামলা করতে শরণখোলা থানায় গেলে ওসি মামলা না নিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেন বলে তিনি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন।
অথচ ঘটনার দু’দিন পরে ১৬ ডিসেম্বর উপজেলার খাদা গ্রামের শফিকুল হাওলাদারের স্ত্রী সালমা বেগমকে বাদি বানিয়ে তার স্বামী মিন্টুসহ ছয়জনকে আসামি করে নারী পাচারের হয়রানিমূলক একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে।
পরে খোঁজ নিলে খাদা গ্রামের ইউপি সদস্য বাবুল আকন জানান, তাদের গ্রামে সালমা বেগম নামে কেউ বসবাস করে না। তবে মামলার বাদি সালমা বেগমের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে, তিনি এ বিষয়ে তেমন কিছু জানেন না তবে এসআই সফি উদ্দিনের সাথে কথা বললে বিস্তারিত বলতে পারবেন বলে জানান।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত এসআই শফিউদ্দিন জানান, তাদের বিরুদ্ধে মানব পাচারের অভিযোগ থাকায় আমরা পেট্রোলে গিয়ে ওই বাড়িতে অভিযান চালাই। শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহ আলম মিয়া ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন। বাগেরহাটের পুলিশ সুপার নিজাম উদ্দিন মোল্যা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জানেরপাড় গ্রামের ইউপি সদস্য মতিয়ার রহমান, গ্রাম পুলিশ পান্না মোল্লা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সালাম সিপাই জানান, বিষয়টি শুনে তারা ওই বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা ভাঙা দেখেন এবং বাড়ির মানুষ ও এলাকাবাসীর কাছে ডাকাতির ঘটনা জানান।
এসএইচ





