নিখোঁজের চারদিন পর রাজশাহীর বাগমারায় ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের (৫০) ক্ষত-বিক্ষত ও অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

বাগমারা উপজেলার শিকদারী বাজারের পাশের একটি পরিত্যক্ত ভাটায় স্থানীয়রা লাশ দেখে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

এদিকে খবর পেয়ে ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তার পরণের পোশাক দেখে লাশ সনাক্ত করেন। নিহত ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বাগমারা উপজেলার দ্বীপপুর ইউনিয়নের দ্বীপপুর গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে ব্যবসায়ী আনোয়ার হত্যাকা-ের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ আব্দুল মান্নান নামের এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

জানা গেছে, ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন নিখোঁজের পর থেকেই আটক আব্দুল মান্নানের মেয়ের জামাই মজনু রহমান পলাতক রয়েছেন। তার বাড়ি নওগাঁর রাণীনগর থানার জয়পুরহাট গ্রামে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত শুক্রবার রাত থেকে আনোয়ার হোসেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকাসহ নিখোঁজ ছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয়রা তার লাশ শিকদারী বাজারের পাশের একটি পরিত্যক্ত ইটভাটার কাছে পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধারের ব্যবস্থা করে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, মুদি ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের কাছে কম মূল্যের সিগারেট বিক্রির প্রলোভন দেখায় মজনু রহমান। এরপর শুক্রবার বিকেলে আনোয়ার এক লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে মজুনর সঙ্গে সিগারেট নিতে বের হন। মূলত তখন থেকেই আনোয়ার হোসেন নিখোঁজ ছিলেনে। তবে ওইদিন রাত ৮টার দিকে আনোয়ার হোসেন মোবাইলে তার মেয়ের সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলেন।

এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বিষয়টি পরিবারের লোকজন বাগমারা থানায় জানায়। এরপর আনোয়ার হোসেনকে উদ্ধারে পুলিশ চেষ্টা চালাতে থাকে। এরই মধ্যে মজনুর শ্বশুর চা দোকানদার আব্দুল মান্নানকেও আটক করে পুলিশ।

বাগমারা থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ লাশ উদ্ধারের কথা স্বীকার করে বলেন, টাকার জন্যেই তাকে খুন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খুন করে লাশ ফেলে রেখে চলে গেছে হত্যাকারীরা। ঘটনায় আরো কারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত ও গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

এআই