ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বজলুল হক হারুন বলেন, পবিত্র হজ পালন করতে এখন থেকে আর হাজিদের সঙ্গে করে টাকা বহনের প্রয়োজন হবে না। হজ পালনে সৌদি আরবে যাওয়া হাজিরা তাদের প্রয়োজনীয় খরচ ব্যাংকিং লেনদেনের মাধ্যমে করতে পারবেন।
রবিবার দুপুর ১টায় জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেসব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। এর আগে সকালে ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
কমিটির সভাপতি বলেন,হজ যাত্রীরা আগে বস্তায় করে টাকা নিয়ে যেত। হজে যেতে যাত্রীদের টাকা বহনের ক্ষেত্রে অনেক ঝামেলা পোহাতে হতো। এসব ঝামেলা এড়াতে কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামীতে যে সকল হজযাত্রী হজ করতে যাবেন তাদের আর কোনো টাকা বহন করতে হবে না। এবার সৌদি আরবের ব্যাংক অব ফ্রান্সিসের মাধ্যমে হাজি সাহেবরা টাকা লেনদেন করতে পারবেন। হাজিরা ওই ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ইচ্ছে মতো খরচ করতে পারবেন।
বজলুল হক হারুন বলেন,হজের নামে আদম পাচার বন্ধেও সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। হজের নামে রোহিঙ্গা পাচার বন্ধে হজ এজেন্সিগুলোকে গভীর পর্যবেক্ষণে রাখার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।
তিনি বলেন,মন্ত্রণালয় রোহিঙ্গা পাচারের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। আরেক দেশের লোক সৌদি আরব গিয়ে বাংলাদেশের বদনাম করবে এটা সহ্য করা হবে না। প্রতিবছর হজ ভিসায় বাংলাদেশিসহ রোহিঙ্গা শরণার্থীরা সৌদি আরব পাড়ি জমায় বলে অভিযোগ রয়েছে। গত বছর সহস্রাধিক হজ যাত্রী বাংলাদেশে ফেরেনি। গত বছর হজের সময় মানব পাচার,অসাধুতা, নিম্নমানের সেবাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে ২৮৪টি হজ এজেন্সির তালিকা ধর্ম মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে সৌদি আরব সরকার।
তিনি আরোও বলেন,নবম সংসদের বাজেট অধিবেশনে ১৮ জুন সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শাহজাহান মিয়া সংসদে জানান,মানব পাচারের অভিযোগে ২০০৯ সাল হতে ২০১২ সাল পর্যন্ত মোট ৩০টি এজেন্সির হজ লাইসেন্স বাতিল করাসহ পৃথক অংকের অর্থদণ্ড এবং ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট-১৯৮৩ ও মানব পাচার আইনে এজেন্সির সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সংসদীয় কমিটির সভাপতি বজলুল হক হারুন বলেন,হজের মাধ্যমে আদম পাচার যাতে না হয় সেদিকে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। হজের নামে সেখানে গিয়ে থেকে যাওয়া সহ্য করা হবে না। হজের নামে অসৎ কাজ করতে দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন এবার হজে যাতে কোনো অনিয়মের কথা না শোনা যায়।
গত বছর মানব পাচার,অসাধুতা, নিম্নমানের সেবাসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ছয় শ’হজ এজেন্সি এ বছর হজ যাত্রী পাঠাতে পারবে না বলেও জানান তিনি।
এবার দুটি ‘প্যাকেজের’ আওতায় তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকায় চলতি বছর ১০ হাজার মুসলমানকে হজে যাওয়ার সুযোগ দেবে বাংলাদেশ সরকার। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে খরচ পড়বে সর্বনিম্ন ২ লাখ ৯৫ হাজার ৭৭৬ টাকা,যার সুযোগ পাবেন ৯১ হাজার ৭৫৮ জন। সব মিলিয়ে সরকারি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট এক লাখ এক হাজার ৭৫৮ জন এ বছর হজ করতে পারবেন।
বজলুল হক হারুন জানান, সার্বিক হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আগামী ৩০ এপ্রিল বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হবে।
[b]ঢাকা, ২০ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ[/b]
হজের খরচ হবে ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে
ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বজলুল হক হারুন বলেন, পবিত্র হজ পালন করতে এখন থেকে আর হাজিদের সঙ্গে করে টাকা বহনের প্রয়োজন হবে না। হজ পালনে সৌদি আরবে যাওয়া হাজিরা তাদের প্রয়োজনীয় খরচ ব্যাংকিং লেনদেনের মাধ্যমে করতে পারবেন
আজ শেষ হজ নিবন্ধন, কোটার বাইরে ১০ হাজারের বেশি আগ্রহী
২০২৭ সালের পবিত্র হজ পালনের জন্য চূড়ান্ত নিবন্ধনের সময়সীমা আজ শনিবার শেষ হচ্ছে। শুক্রবার পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৭৫ হাজার ৯১৮ জন হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
হজের কোটায় শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান কত?
২০২৭ সালের হজে বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মুসল্লি পবিত্র মক্কা-মদিনায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হজযাত্রী পাঠানোর সুযোগ পাওয়া শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশও। সৌদি আরবের নির্ধারিত কোটার হিসাবে ৭৮ হাজার ৫০০ হাজির কোটা নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম।
হজ নিবন্ধনের সময় শেষ হচ্ছে ২৪ সেপ্টেম্বর
২০২৭ সালের হজে গমনেচ্ছুদের নিবন্ধনের সময় আর বাড়ানো হবে না। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরই নিবন্ধনের শেষ দিন বলে জানিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। নির্ধারিত সময়ের পর আর নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে না।
হজ নিবন্ধন শেষ হচ্ছে কবে, জেনে নিন
২০২৭ সালের হজে অংশ নিতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের নিবন্ধনের সময়সীমা আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। নির্ধারিত সময়ের পর নিবন্ধনের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না বলে জানানো হয়েছে।
বাড়বে না সময় হজের নিবন্ধন শেষ ২৪ সেপ্টেম্বর
২০২৭ সালের পবিত্র হজের নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে। সৌদি সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হজযাত্রীদের নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর নিবন্ধনের সময় আর বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
















