গ্যাস সংকট নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকায় বিক্ষোভে সংঘর্ষ ও পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাংবদিক ও পুলিশসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকালে ভিবজিউর নীট কম্পোজিট লিমিটেড নামের একটি কারখানায় ভাংচুর ঘিরে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
গ্যাস সংকটের জন্য দায়ী করে উত্তরপাড়া সিকদার বাড়ি পুলে অবস্থিত কারখানাটিতে হামলা চালায় এলাকাবাসী। বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা পৌনে ৬টা পর্যন্ত এ বিক্ষোভ, ভাংচুর ও সংঘর্ষ চলে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টায় কয়েকহাজার এলাকাবাসী ভিবজিউর নীট কম্পোজিট লিমিটেড কারখানায় হামলা চালায়।
এ সময় তারা কারখানাটির প্রধানফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে কারখানার চারটি গাড়ি, আসবাবপত্র, জানালার গ্লাস ও মেশিন ভাঙচুর করে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গে এলাকাবাসীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এসময় এলাকাবাসী পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। পুলিশও পাল্টা শটগানের গুলিবর্ষণ ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
এলাকাবাসী এ সময় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই মাজহার, হারুন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের এসআই রশিদ, সাংবাদিক মোস্তাক আহমেদ শাওনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। সংঘর্ষের ঘটনায় সাংবাদিক, পুলিশ ও এলাকাবাসীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ জাকারিয়া জানান, বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কারখানাটিতে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১০-১২ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুঁড়েছে। পুলিশের ৫/৬ জন সদস্য সামান্য আহত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক অফিসের জিএম শফিকুল ইসলাম জানান, 'এ বিষয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা এর আগে একটি যৌথ সার্ভে করেছিলাম। কিন্তু ওই সময় আমরা কোনো বুস্টার মেশিন কিংবা অন্য কোনো সংযোগ পাইনি।
তিনি আরও জানান, 'আবার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তিতাস গ্যাস ও এলাকাবাসীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে যৌথ সার্ভে করা হবে।'
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ অবৈধভাবে কম্প্রেসারের (বুস্টার মেশিন) মাধ্যমে গ্যাস টেনে নেয়ায় আবাসিক গ্রাহকরা গ্যাস পাচ্ছে না। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত গ্যাস থাকে না ওই এলাকায়।
তাদের অভিযোগ, জালকুড়ি এলাকায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্যাস পাওয়া যায় না। অথচ তাদেরকে প্রতি মাসেই গুণতে হচ্ছে বিল।
এর আগেও ২০১৪ সালের ১৯ অক্টোবর ভিবজিউর নীট কম্পোজিটে হামলা চালিয়ে কারখানার গ্লাস ও প্রধান ফটক ভাঙচুর করেছিল এলাকাবাসী। এরপর বেশ কিছুদিন গ্যাস সংকট দেখা দেয়নি।
এআই





