গত তিন দিনের টানা বর্ষণে ঠাকুরগাঁওয়ের ৫ উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। এতে ১ জন নিখোঁজসহ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কমপক্ষে ১৫ হাজার মানুষ।

গত বৃহস্পতিবার থেকে এ বৃষ্টিপাত শুরু হয়। কাঁচা ও আধাপাকা ২ সহস্রাধিক ঘরবাড়ি বিনষ্ট হয়েছে। ফসলের ব্যাপক পরিমাণ ক্ষতি হয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে মানুষ।

শুক্রবারেও চলে ভারি বর্ষণ। এর ফলে জেলার সদর উপজেলার গড়েয়া গোপিকান্তপুর,আরাজি পাহাড় ভাঙ্গা, আরাজি চিলারং বগুলাডাঙ্গী, সালন্দও, ইয়াকুবপুর, বরুনাগাঁও, সিংপাড়া,রায়পুর,জগন্নাথপুর,বেগুনবাড়ি, রুহিয়া মন্ডলাধাম,রামনাথ, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বেউরঝারি,রতনাই,শুটকি বস্তি, হাসুয়া, চড়ইগেদি, ভান্ডারদহ, রানীশংকৈল উপজেলার কাশিপুর খেরবাড়ি,রাউথ নগর, হরিপুর উপজেলার সিংহারি,কান্দাল, আটঘড়িয়া,বুজরুক, টেংরিয়া এবং পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট বালুবাড়ি,করনাই,চন্দরিয়া সহ বিভিন্ন এলাকার ফসলিজমি পানিতে তলিয়ে যায়।

হরিপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সোলায়মান আলী জানান,তার এলাকার প্রায় ৫শ কাঁচা বাড়িঘর বিনষ্ট হয়েছে। অন্যদিকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আমজান খোর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আকালু বলেন, তার এলাকা নদীর সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় পানি ৫-৬টি গ্রামে ঢুকে পড়ে। ঐ এলাকার হাজার হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে।

জেলা শহরের ডিসি বস্তিতে হঠাৎ নদীর পানি ঢুকে পড়ায় বাড়িঘর পানিতে ডুবে যায় এবং বস্তির বাসিন্দা রিয়াদ (২০) নামের এক জন নিখোঁজ হয়। সদর থানার ওসি মশিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কে.এম মাউদুদুল ইসলাম জানান,ভারি বর্ষণে প্রায় ৭’শ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। ৩ দিনে প্রায় ৩’শ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড.নিয়াজউদ্দিন জানান,অনেক পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। এতে মাছ চাষিরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল বন্যা দূর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন। তবে ক্ষয় ক্ষতির পরিমান নির্ণয়ের পরে তিনি জানাবেন।

পারভেজ/এএন