বান্দরবানে চার উপজেলায় বন্যায় প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যাদুর্গতদের সাহাযার্থে জেলায় ৭০টি আশ্রয় কেন্দ্র এবং জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে সর্বক্ষনিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে বান্দরবান জেলা সদরে বন্যাদুর্গত এবং পাহাড় ধসে পড়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি। এসময় জেলা প্রশাসক মিজানুল হক চৌধুরী, জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, পৌর মেয়র মোহাম্মদ জাবেদ রেজাসহ পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক মিজানুল হক চৌধুরী জানান, বান্দরবানের লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, থানছি এবং সদর উপজেলায় বন্যায় প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যাদুর্গতদের সাহায্যার্থে জেলায় ৭০টি আশ্রয় কেন্দ্র এবং সর্বক্ষনিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রশাসন কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। বন্যায় দুর্গতদের সাহায্যার্থে তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসনের পক্ষে ৫০ মেট্রিকটন খাদ্যশস্য এবং ৭০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকা এবং একশ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় গত বৃহস্পতিবার থেকে দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ তৎপরতা শুরু হয়েছে। সরকারিভাবে এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছে। বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট নিরসনে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দেয়া হচ্ছে। মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের সাহায্য সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। বন্যাদুর্গতদের সাহায্যে সবধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়া হবে।
পৌর মেয়র মোহাম্মদ জাবেদ রেজা জানান, বন্যাদুর্গত পৌরবাসীকে শুক্রবার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। শনিবার পৌরসভার পক্ষ থেকে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সরবরাহ করা হবে। বন্যাদুর্গতদের এবং পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে আনা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত পাঁচ দিন ধরে (গত সোমবার থেকে) বান্দরবানে অবিরাম বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। পাহাড় ধসে ইতোমধ্যে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত আরও তিনজন সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
জেআই





