ঝালকাঠিতে ধার নেয়া ৩ লক্ষ টাকা ফেরৎ চাওয়ার অপরাধে ধর্মভাই অষ্ট্রিচ রকেট লঞ্চের গ্রীজারম্যান মাহাবুব মোল্লা (৫০) শহরের ষ্টেশন রোডস্থ গৃহবধূ পারভিন বেগম (৪২) কে বেধরক মারধর করে।এতে তার এক পা ভেঙ্গে যায়।
মারধরের একপর্যায়ে তাকে জানলা দিয়ে নদীতে ফেলে দেয়ার চেষ্টা করে। তার চিৎকারে রকেটের অপর কয়েক ষ্টাফ ও যাত্রী ছুটে আসলে অল্পের জন্য সে প্রানে বেঁচে যায়।
এ ব্যাপারে শনিবার রাতে গৃহবধূ পারভিন বেগম কে নিয়ে তার মেয়ে ঝর্না বেগম ঝালকাঠি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এতে মাহাবুব মোল্লা সহ ৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এছাড়াও এঘটনার বিচার দাবী করে বিআইডব্লিউটিসির মহা-পরিচালকসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিকার চেয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা থেকে কাপড় এনে ঝালকাঠিতে ব্যবসা করার সুবাদে অষ্ট্রিচ রকেটে যাতায়াত করে পারভিন। তখন ২০০০ ইং সালে অষ্ট্রিচ রকেটের গ্রীজারম্যান মাহাবুব মোল্লার সাথে পারভিন বেগমের পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে মাহাবুব ও তর পরিবারের সাথে পারভিন বেগমের পারিবারিক সম্পর্ক সৃষ্টি হয়।
সে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে মাহাবুব তার ছোট বোনের চাকুরি ও বাবার কিডনী অপারেশনের নামে ২ লাখ ধার নেয় ও পরে তার ছোটভাই মফিজুল মোল্লা বাড়ী মেরামতের সময় আরও ১ লাখ টাকা ধার নেয়। তাদের পিতা আঃ ছাত্তার মোল্লার জামিনে ও মাহাবুবের স্ত্রীর আশ্বাসের ভিত্তিতে মোট ৩ লক্ষ টাকা দেন পারভিন। ছেলেরা টাকা না দিলে ছাত্তার মোল্লা পারভিনকে জমি লিখে দিবেন বলেছিলেন।
পারভিন তার প্রয়োজনে ৩ লক্ষ টাকা ফেরত চাইলে মাহাবুব মোল্লা নানা অজুহাত দেয়া শুরু করে।পরিবারের লোকজনও ফোন ধরা বন্ধ করে দেয়। এক পর্যায়ে ২১ নভেম্বর শুক্রবার দুপুর ২ টায় পারভিন হুলারহাট রকেটঘাটে অষ্ট্রিচ জাহাজে উঠে ইঞ্জিন রুমে মাহাবুবকে খুজে পায়। তার দারুন সমস্যার কথা জানিয়ে হাত-পা ধরে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে সে অস্বীকার করে। বাক বিতন্ডার এক পর্যায়ে শেখেরহাট পর্যন্ত আসলে এ ঘটনা ঘটে।
পরে রকেটের অন্যান্যদের সহযোগীতায় আহত পারভিন বেগম তার মেয়ে ঝর্না বেগমকে ফোন করে। ঝর্ণা বেগম ঝালকাঠি রকেট ঘাট থেকে জাহাজে উঠে আহত মাকে নিয়ে অষ্ট্রিচ রকেটের ইনচার্জ মোঃ লোকমান কে জানালে তিনি আইনের আশ্রয় নিতে বলেন। পরে বরিশাল রকেটঘাট থেকে আহত পারভিন বেগমকে নিয়ে এ্যাম্ভুলেন্সযোগে ২১ নভেম্ভর রাত সাড়ে ৮ টায় ঝালকাঠি সদড় হাসপাতালে চিকিৎসা করান ঝর্ণা বেগম।
কেএইচ





