ভোলার মনপুরা উপজেলার মেঘনায় ট্রলার ডুবির ঘটনায় পাঁচ শিশু ও চার নারীসহ ১০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন আরো অন্তত ২০ জন।

বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে জেসমিন (২২), রুপা (৩), তানজিনা (২), তাহমিনা (৩), রনি (২) ও আমিনা বেমনা (৫৬) নামে ছয়জনের নাম জানা গেছে।

দুর্ঘটনা কবলিত ট্রলার ও নিখোঁজদের উদ্ধারে পুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যরা কাজ করছে।

এদিকে, স্থানীয়রা জানান, খাদিজা, আমেনা, ইমরান, আজিম, নুর নাহার, বারেক ও রেজওনাসহ ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এদের মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বেলা পৌনে ১২টার দিকে মনপুরা উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ কলাতলীর চর থেকে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে নঈম মাঝির একটি ট্রলার মনপুরা উপজেলা সদরের দিকে আসছিল। এসময় ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। স্থানীয় জেলেরা ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর এদের মধ্যে চার শিশু ও এক নারীকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। দুপুর দেড়টার দিকে স্থানীয়রা আরো পাঁচটি মৃতদেহ উদ্ধার করেন।

তবে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এরশাদ আলী আটজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিখোঁজদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

ভোলা কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের অপারেশন অফিসার লেফটেন্যান্ট খালিদ জানান, ট্রলার ও নিখোঁজদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড কাজ করছে। তবে বৈরি আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

ভোলার জেলা প্রশাসক মো. সেলিম রেজা জানান, জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানের গুরুত্বের সঙ্গে উদ্ধার কাজ চালানো হচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিরা উদ্ধার না হওয়ায় পর্যন্ত এ উদ্ধার কাজ চলবে।

এদিকে, ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের কান্নায় আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। মেঘনার পাড়ে নিখোঁজদের খুঁজে বেড়াচ্ছেন স্বজনরা।

জেআই