নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় ছাট কাপর দিয়ে দড়ি তৈরি করে ভাগ্যবদলে গেছে হাজারো নারীর। আর এই দড়ি তৈরি করে অনেক পরিবারের নারীরা তাদের সন্তানদের লেখাপড়া ও স্বামীদের সহযোগিতা করে জিবিকা নির্বাহ করছে।
যারা এ পেশার সঙ্গে যুক্ত তারা সবাই গরীব। এতে এই এলাকার গরীব অহসায় নারীদের মুখে হাসি দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার দক্ষিন রাজাপুর, উত্তর রাজাপুর, পূর্ববালুভরা, পশ্চিম বালুভরা, বিষ্ণপুর, লোহাচুড়াসহ প্রায় ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার নারী দড়ির উপর জিবিকা নির্বাহ করে। দড়ি তৈরিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে তারা। নিজ বাড়িতে কাঠের পাল্লার সাথে বিয়ারিং ও লোহার রড যুক্ত করে দড়ি পাকানো মেশিন তৈরি করে দেয় কাঠমিস্ত্রি।
আর খুটি হিসেবে ব্যবহার করে ২টি বাঁশ বা কাঠ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। স্থানীয় পাইকাররা চট্টগ্রাম হইতে ছাট কাপড় কিনে নিয়ে আসে। এদড়ি তৈরি করার জন্য স্থানীয় পাইকারদের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দামে ছাট কাপড় কিনে নিয়ে যায় দড়ি তৈরির কারিগররা।
দড়ি পাকানো মেশিন দ্বারা প্রতিনিয়ত ছাট কাপর দিয়ে দড়ি তৈরি করছে কয়েক হাজার পরিবারের নারীরা। ছাট কাপর দিয়ে দড়ি তৈরি করতে ২ থেকে ৩ জন মানুষ লাগে। একজন মেশিন দিয়ে পাকদেন ও আরেকজন ছাট কাপরগুলো জোরা দেয় ও শেষ পর্যন্ত দড়ি তৈরি পুরোটা হওয়ার জন্য আরেকজন লাগে।
এক মণ ছাট কাপর দিয়ে প্রায় ২ হাজার টাকার দড়ি তৈরি হয়ে থাকে। ৬, ৮, ১২ ও ১৬ হাত মাপের দড়ি তৈরি করা হয়। আর দড়ি কারিগররা তৈরি করে খুচরা ও পাইকারী বিক্রি করে। এতে লাভ থাকে প্রায় ৬শত থেকে ৭শত টাকা।
ছাট কাপর দিয়ে তৈরি দড়ি টেকসই। এদড়ির বেশি চাহিদা হওয়ার কারনে স্থাণীয় পাইকাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে দড়ি পাইকারী হিসেবে কিনে সুতিরহাট, বাঘমাড়া, তল্লিপুর, জয়পুরহাট, সাপাহার, নাটোর, রাজশাহী, চাঁপায় নবাগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গায় তারা এদড়ি বিক্রি করে থাকে।
উপজেলার পূর্ব বালুভরা গ্রামের দুলালের স্ত্রী ফরিদা বিবি বলেন, আমার সংসারে সব সময় অভাব লেগে থাকতো। এক সময় দড়ি তৈরি করার কাজ শিখে নিই। নিজের বাড়িতে দড়ি পাকানো মেশিন তৈরি করে নিয়ে একজনকে সাথে নিয়ে প্রতিনিয়ত ছাট কাপর দিয়ে গত ১৫ বছর দড়ি তৈরি করি।
এতে যা লাভ হয় সন্তানকে লেখাপড়া ও স্বামীকে সহযোগিতা করে খুব ভালভাবে আমরা চালিয়ে আসছি এটাই আমার পেশা। সরকারের পক্ষ থেকে আমাদেরকে ক্ষৃদ্র ঋণের ব্যাবস্থা করে দিলে আমরা অর্থসামাজিক ভাবে উন্নয়ন করতে পারবো।
উপজেলার পূর্ব বালুভরা গ্রামের মৃত সোলেমান প্রামানিকের স্ত্রী আছিয়া বেওয়া বলেন, আমার স্বামী নেই। আমি দীর্ঘ দিন ধরে ছাট কাপর দিয়ে দড়ি তৈরি করি। সন্তানদের নিয়ে ভালভাবে জীবন-জাপন করছি। সরকারের পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষৃদ্র ঋণের ব্যাবস্থা করে দিলে আমরা অর্থসামাজিকভাবে উন্নয়ন করতে পারবো।
স্থানীয় ছাট কাপর ব্যাবসায়ী হাসু বলেন, আমি চট্টগ্রাম থেকে ছাট কাপর কিনে আনি। আমার কাছ থেকে বিভিন্ন গ্রামের দড়ি তৈরির কারিগররা পাইকারী নিয়ে যায়। ছাট কাপর দিয়ে দড়ি তৈরি করে অনেক পরিবার অভাবকে দূর করেছে। আবার অনেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পাইকারী নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় দড়ি বিক্রি করে।
তিনি আরো বলেন, এসব পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে যদি ক্ষৃদ্র ঋণের ব্যাবস্থা করা হয় তাহলে এর প্রসার আরো বৃদ্ধি পাবে। এই এলাকার অনেক গরীব অসহায় পরিবার অর্থসামাজিক ভাবে উন্নত হবে।
এমএনজে/রাব্বী





