নড়াইলের ক্ষুদে চিত্রশিল্পীরা ব্যতিক্রমধর্মী ছবি আঁকায় ব্যস্ত আছেন। সুলতানের ভাবাদর্শ’র ক্ষুদে শিল্পীরা দীর্ঘ ২ হাজার ৯শ ১৬ বর্গফুটের ছবি আঁকার দঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, নড়াইল শহরের কুড়িগ্রামে শিল্পী বিমানেশ বিশ্বাসের বাড়িতেই চলছে এ বিশাল আকৃতির ছবি আঁকার কাজ। এক ঝাক ক্ষুদে আঁকিয়েরা হাসি আনন্দের মধ্য দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন এ ছবি আঁকার কাজ। বিশাল ক্যানভাসের ওপর চলছে তাদের নরম হাতের নিপূন শৈল্পিক কাজ।

ছবির আয়তন হবে ২ হাজার ৯শ ১৬ বর্গফুট। যার দৈর্ঘ্য ১ হাজার ফুট এবং প্রস্থ ৩৫ ইঞ্চি। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৯ শ বর্গফুট ছবি আঁকা সম্পন্ন হয়েছে। তাদেরকে উৎসাহ যোগাচ্ছেন সুলতানের শিষ্য নড়াইল পৌরসভার কুড়িগ্রামের বিমানেশ বিশ্বাস। মুলতঃ তিনিই এ ছবির উদ্যোক্তা। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি বর্ণাঢ্য জীবনে নড়াইলের শিশুদের ছবি আঁকা শেখাতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। শিশুদের জন্য শিল্পাঞ্জলি ভ্রাম্যমান অবৈতনিক আর্ট স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। নড়াইল শহরের কুড়িগ্রামে শিল্পীর নিজ বাড়িতেই রয়েছে এ আর্ট স্কুল।

এছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থানে এ শিল্পীর হাতে গড়া ৪ টি আর্ট স্কুল রয়েছে। এসব স্কুলের দুই শতাধিক শিশু চিত্রশিল্পী কার্টিস পেপারে সুদীর্ঘ এ ছবি আঁকছে। এসব শিশুদের অর্ধেকেরও বেশী আদিবাসি ও অতিসাধারণ পরিবারের সন্তান।

শিল্পী বিমানেশ বিশ্বাস জানান, ২০১৬ সালের ২ ডিসেম্বর সম্পূর্ণ নতুন ধারার এবং ব্যতিক্রমধর্মী এ চিত্রকলার কাজ শুরু হয়েছে। অ্যামেরিকান কার্টিস পেপারে শিশুরা ওদের ইচ্ছামত নিজের ভাবনায় বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ছবি আঁকছে। অত্যন্ত দৃষ্টি নন্দন এবং অর্থ বহুল একটি শিল্পকর্ম হবে বলে তিনি মনে করেন। ছবি আঁকার বিষয় বস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে-মুক্তিযুদ্ধ, গ্রামীণ জীবন, মসজিদ-মন্দির, নৌকাবাইচসহ বিভিন্ন লোকজ উৎসব, বর-কনে, পালকি, রাখাল, কৃষক-শ্রমিক,দিনমজুর, কম্পিউটার, মোবাইল টাওয়ার, মাছ শিকার, ঈদের নামাজ ইত্যাদি।

বিশাল এ ছবি ডিজিটাল প্রিন্ট করে বিভিন্ন স্কুলে দেখানোর ব্যবস্থা করতে পারলে শিশুরা আনন্দ পাবেও ছবি আঁকার প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়বে বলে মনে করেন এ কৃতি শিল্পী। শিশুদের নিয়ে এতো বৃহৎ ক্যানভাসে ছবি আঁকার ধারনা কিভাবে পেলেন ? এমন প্রশ্নে শিল্পী বিমানেশ বিশ্বাস আরোও বলেন,‘দীর্ঘদিন ধরে তিনি শিশুদের ছবি আঁকা শেখাচ্ছেন। শিশুরা এ ফোর সাইজের ছোট কাগজে ছবি আঁকে। এ ছবি সংরক্ষণ করা যায় না। বৃহৎ ক্যানভাসে বড় ছবি আঁকলে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, এ চিন্তা চেতনা থেকেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। তাছাড়া এতে শিশুরা উৎসাহ পাবে, শক্তি সাহস পাবে। চারুকলা ও ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহী হবে। তিনি ধারনা করছেন এ বছরের মধ্যেই এ ছবি আঁকা সম্পন্ন হবে। গুরু চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন,গুরুর আশির্বাদ নিয়েই তাঁর শিল্পী জীবন শুরু। আর তাঁর আশির্বাদ আছে বলেই তিনি অনেক কাজে সফল হয়েছেন। আর এভাবে একের পর এক শৈল্পিক নিদর্শন রাখতে সক্ষম হচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থীদের দিয়ে গড়তে যাচ্ছেন বিশ্ব রেকর্ড। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ ছবিটি সম্পন্ন হলে এটাই হবে শিশুদের ক্যানভাসে আঁকা বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ ছবি।

রিন্টু/জারিফ