হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি থার্মাল স্ক্যানার মেশিন (দেহের উত্তাপ মাপন যন্ত্র) বসানোর দুই বছরের মাথায় এগুলোর দুটিই নষ্ট হয়ে গেছে। নষ্ট মেশিন না সারিয়ে এখন নতুন করে আরও দুটি মেশিন আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
থার্মাল স্ক্যানার মেশিনে জ্বর নির্ণয় করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইবোলা সংক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটিসহ মোট ছয়টি থার্মাল স্ক্যানার মেশিন কেনা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সে সময় একেকটি মেশিনের দাম পড়েছিল ৩৫ লাখ টাকা। তিন বছরের কম সময়ে দুটি স্ক্যানার নষ্ট হওয়ার পর এখন যে স্ক্যানারটি সচল, সেটি শুধু বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রবেশের পথে বসানো হয়েছে। ফলে বিপুলসংখ্যক যাত্রীর জ্বর মাপতে হচ্ছে সাধারণ থার্মোমিটার দিয়ে।
সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া এবং আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে বাংলাদেশি থাকায় ৩ সেপ্টেম্বর থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরসহ দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জিকা ভাইরাস শনাক্ত করার কার্যক্রম শুরু হয়। মূলত সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে আসা যাত্রীদের জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ পরীক্ষা করার কথা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে প্রতিদিন আসা ১৬টি ফ্লাইটে প্রায় ৫ হাজার যাত্রী ঢাকায় প্রবেশ করেন। গত ৩ জুলাই থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৬ হাজার যাত্রী এই তিনটি দেশ থেকে বাংলাদেশে এসেছেন। এত বিপুলসংখ্যক যাত্রীর জ্বর থার্মোমিটার দিয়ে পরীক্ষা করতে বেগ পেতে হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মীদের। ২৪ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, নিচতলায় স্বাস্থ্যকর্মীরা আগমনী সিঁড়ির সামনে যাত্রীদের জ্বর মাপছেন।
মেশিনটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হার্মা অ্যান্ড ফার্ম। ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি, চট্টগ্রামের হজরত শাহ আমানত বিমানবন্দরে একটি ও সিলেটের এম এ জি ওসমানী বিমানবন্দরে একটি এবং বেনাপোল স্থলবন্দরে একটি মোট ছয়টি থার্মাল স্ক্যানার স্থাপন করে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশলী ও থার্মাল স্ক্যানারের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছেন জহুরুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেশিনগুলোর ওয়ারেন্টি পিরিয়ড (বিক্রয়োত্তর সেবার সময়) ছিল এক বছর। সময় শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে আরও দুটি মেশিন আনা হবে। তখন আর সমস্যা হবে না।’
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রমণ রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার (সিডিসি) উপ-কর্মসূচি ব্যবস্থাপক নাসির আহমেদ মেশিন নষ্ট হলেও জ্বর মাপায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ দুই বছর মেশিনগুলো কাজ করেছে। দুটি স্ক্যানারের ওয়ারেন্টি পিরিয়ড শেষ। এগুলোর ক্যামেরাও নষ্ট হয়ে গেছে। যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এগুলো কেনা হয়েছে, তাদের মেরামত করতে বলা হয়েছে।’
এখন জিকা ভাইরাস শনাক্ত করতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিমান সংস্থা থেকে পাঠানো তথ্য বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের অন্যতম ভরসা। বিদেশ থেকে আসা কোনো যাত্রীর জ্বর থাকলে তার তথ্য বিমান সংস্থা সংগ্রহ করে। এরপর সেখান থেকে বিমানবন্দরের দোতলায় অবস্থিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জানানো হয়। মূলত তখনই থার্মোমিটার দিয়ে ওই রোগীকে পরীক্ষা করা হয়। সন্দেহের মাত্রা বেশি হলে তাঁর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। প্রয়োজন হলে ওই রোগীকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা ছয়টি মেশিনের জন্য মাত্র এক বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো, সে প্রশ্ন করা হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক আবুল খায়ের মো. শামছুজ্জামানকে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তখন এমন চুক্তিই হয়েছিল। এখন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে আরও ১০ বছর সেবা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী চুক্তির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এমবিএইচ





