জেলার নড়িয়ায় শুক্রবার রাতে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পেট্রোল ঢেলে ৯টি ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপরদিকে গোসাইরহাট উপজেলায় আগুন লেগে ১০টি ঘর পুড়ে গেছে। এ সময় তিনজন আহত হয়েছেন।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবিরুল ইসলাম জানান, নশাসন ইউনিয়নের গাগড়ীজোড়া গ্রামের কাসেম বেপারী ও আয়নাল বেপারীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে শুক্রবার গভীর রাতে আয়নাল বেপারী, শফিক বেপারী, আঞ্জু আকন ও ধলু আকন কাসেম বেপারীর খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাড়ির লোকজন টের পেয়ে আধঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে ঘুমিয়ে পড়েন। এর কিছুক্ষণ পরে কাসেম বেপারী, হাসেম বেপারী, ফজল বেপারী, আবু বকর বেপারী ও ভানু বিবির বসতঘরে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ওই সব ঘর পুড়ে যায়। এ সময় ঘরের ভিতরে ঘুমন্ত মানুষ আগুনের তাপে জেগে উঠে তাড়াহুড়ো করে বের হওয়ার সময় তিনজন আহত হন।

আহতরা হলেন— আবদুল খালেক ছৈয়াল, ভানু বিবি ও আবু বকর।

খবর পেয়ে শরীয়তপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। ততক্ষণে ৯টি ঘর ও ঘরের ভেতরে থাকা ধান, চাল, সরিষা, কলই, পেঁয়াজ, রসুন, জামা-কাপড়, টাকা-পয়সা, হাঁস-মুরগিসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত কাসেম বেপারী, হাসেম বেপারী, ফজল বেপারী, আবু বকর বেপারী ও ভানু বিবি।

এ ব্যাপারে কাসেম বেপারী বলেন, ‘আয়নাল বেপারী ও তার লোকজন গভীর রাতে পেট্রোল ঢেলে আমাদের ঘরে আগুন দিয়ে পুড়ে দিয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’

আয়নাল বেপারীর স্ত্রী নূরজাহান বিবি বলেন, ‘গত রাতে ওদের ঘর আগুনে পুড়ে গেছে। আমাদের সঙ্গে শত্রুতা থাকায় মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বলছে, আমরা ওদের ঘর পুড়িয়েছি। মিথ্যা কথার বিচার আল্লাহ করবে।’

ওসি বলেন, ‘আমাদের ধারণা প্রথমে যে খড়ের পালায় আগুন ধরেছিল সেখান থেকে আগুন লাগতে পারে। আবার কেউ শত্রুতা করেও আগুন দিতে পারে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে শুক্রবার রাতে গোসাইরহাট উপজেলার কুচাইপট্টি নলমুড়ি গ্রামে আগুনে ১০টি ঘর পুড়ে গেছে। স্থানীয় লোকজন প্রায় আধঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে ১০টি ঘর ও ধান-চাল, কলাইসহ ঘরে থাকা সব মালপত্র পুড়ে যায়।

ওই গ্রামের আলী হোসেন মোতাইতের রান্নাঘরের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুন নাহার বেগম, ওসি মোফাজ্জেল হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) তাহমিনা আক্তার ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল বাশার মুন্সি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

জেআই