আসন্ন রমজানের ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত সহজ করতে জোর প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবছর নামবে বাড়তি ট্রেন ও বগি। যেগুলো ঈদ স্পেশাল ট্রেন সার্ভিস হিসেবে বাড়তি যাত্রী পরিবহন করবে।

এছাড়া প্রতিদিন বিক্রি হবে ২৫ হাজার অগ্রিম টিকেট। যাত্রী সেবা নিশ্চিতে রেলওয়ে কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিলেরও পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে চলমান ৪১টি আন্তঃনগর ট্রেনের সঙ্গে ৫টি করে অতিরিক্ত বগি সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের ভোগান্তি দূর করতে অতিরিক্ত এসব বগি সংযোজনের জন্য উভয় জোনের দুটি কারখানা থেকে থেকে প্রায় ১৪০টি বগি যুক্ত করার প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছে রেলওয়ে। এরমধ্যে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী কারখানা থেকে ৭০টি, সৈয়দপুর থেকে নামানো হতে পারে ৭০টি। তবে ঠিক কতটি বগি সংযুক্ত হবে তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে রোববার দুপুরে। এদিন দুপুরে রেলভবনে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও রেলভবনে এ বিষয়ে বিশেষ বৈঠক হবে।

এদিকে পাহাড়তলি কারখানা থেকে ৩০-৩২টির মতো বগি ইতিমধ্যে বের হয়েছে বলে জানা গেছে। বাকিগুলোর মেরামত দ্রুততার সঙ্গে চলছে বলে জানা গেছে। সৈয়দপুর কারখানা থেকেও ১৮-২০টি বগি বের হয়েছে। অন্যান্য বগির কাজ চলছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের ২৯১টি ট্রেন চলাচল করছে। ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে প্রতিদিন ১২২টি ট্রেন চলাচল করে। এর সঙ্গে যোগ হবে ঈদ স্পেশাল ট্রেন। ঈদ স্পেশাল ট্রেন গতবার ৪টি থাকলেও এবার সেই সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে জানা গেছে।

রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক শনিবার বিকেলে বলেন, বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতা নিয়ে আমরা এবার ব্যাপক সতর্ক। বিগত বছর আমাদের কোথায় কি সমস্যা ছিল তা চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করছি। এবছর গতবছরের তুলনায় বাড়তি বগি ও বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘এবার মন্ত্রী, সচিব, রেলওয়ের ডিজি যাত্রীদের সেবায় মাঠে কাজ করবেন।’

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. তাফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কালোবাজারি রোধেও এবার ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে কবে নাগাদ অগ্রিম টিকিট বিক্রি হবে এসব বিষয়ে রোববার দুপুরে গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে ঈদে ই-টিকেটের মাধ্যমেও ক্রেতারা ট্রেনের টিকেট ক্রয় করতে পারবেন। বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে টিকিট কেনার ব্যবস্থা রয়েছে। অনলাইনের মাধ্যমে মোট টিকিটের ২৫ শতাংশ যাত্রীদের জন্য বরাদ্দ। অনলাইনে একজন সর্বোচ্চ চারটি টিকেট কিনতে পারবেন। কম্পিউটার কিংবা মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে গ্রাহকরা অনলাইনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য কমলাপুর স্টেশনে আলাদা টিকিট কাউন্টার থাকবে।

ঢাকা, ৬ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ