রংপুরে ইসলাম ধর্ম ও মহানবীকে (সাঃ) নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি ও অবমাননাকর ছবি পোস্ট করার অভিযোগে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও হিন্দুদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৩৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার রাত থেকে আজ (শনিবার) ভোর পর্যন্ত রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া, তারাগঞ্জ ও সদর উপজেলায় রাতভর অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৩৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সুপার বলেন, শুক্রবার দুপুরে ওই ঘটনার পরই অভিযানে নামে পুলিশ। সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া অন্য অপরাধীদেরও আটক করা হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে রাতে রংপুর সার্কিট হাউস মিলনায়তনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী আলহাজ মশিউর রহমান রাঙ্গার উপস্থিতিতে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
রংপুরের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ওই অপ্রীতিকর ঘটনার তদন্তে রংপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু রাফা মো. রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- রংপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুর রহমান সাইফ ও রংপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউল ইসলাম।
রংপুরের পাগলাপীর শলেয়া শাহ এলাকার খগেন চন্দ্র রায়ের ছেলে টিটুল চন্দ্র রায় (৪০) রোববার ইসলাম ধর্ম ও নবীকে নিয়ে ‘ফেসবুকে’ কটূক্তি করে প্রচার চালায়। গত কাল শুক্রবার অবমাননাকর পোস্ট দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও জনতার মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছে। ৫ পুলিশ’সহ আহত হয়েছে প্রায় ৬০ জন। সংঘর্ষের সময় হাবিবুর রহমান (২৬) ও সিএনজি চালক হামিদুল ইসলাম (৩০) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
নিহত হাবিবুরের স্বজন আজিমুল ইসলাম বলেন, হাবিবকে মৃত অবস্থায় পেয়ে ভর্তি করেনি হাসপাতালে কর্তৃপক্ষ। লাশ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেঝেয় পড়ে রয়েছে।
নিহত হাবিবের বোন আমেনা বেগম অভিযোগ করেন, পুলিশের গুলিতে তাঁর ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গত ২৮শে অক্টোবর টিটু রায় নামে এক হিন্দু যুবক ‘এমডি টিটু’ নামের আইডিতে ইসলাম ধর্ম ও হযরত মুহম্মদ (সাঃ) সম্পর্কে অবমাননাকর উক্তি দিয়ে পোষ্ট দিলে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরবর্তীতে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়। এই ঘটনায় দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের তারাগঞ্জ সলেয়াশাহ এলাকায় বিক্ষুব্ধ মুসল্লী ও এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচীও পালন করেছিলো।
কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই যুবকের শাস্তির দাবিতে আজ (শুক্রবার) বাদ জুম্মা সলেয়াসা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়। জুম্মার নামাজের পর শত শত মানুষ সলেয়াসা বাজার এলাকায় জমায়েত হয় এবং মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় ওই সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে অবরোধকারীদের রাস্তা ছেড়ে দেয়ার আহবান জানায়। এনিয়ে পুলিশের সঙ্গে অবরোধকারীদের কথা কাটাকাটি, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এসময় সংঘর্ষ বেঁধে প্রায় ২ ঘন্টা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শতাধিক রাউন্ড টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপে আহত হয় ৬০ জন।
এমবি





