রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বাংলাদেশকে ৪৮ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪ হাজার ৫৬ কোটি টাকা) অপরিশোধযোগ্য অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) বিশ্ব ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বলা হয়, রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও সামাজিক সুরক্ষাজনিত চাহিদা মেটানোর জন্য এ সহায়তা দেওয়া হবে।

গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনী ও উগ্র-বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর পূর্বপরিকল্পিত ধর্ষণ-গণহত্যা-অগ্নিসংযোগ শুরু করলে সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় মুসলমানরা। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী- গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ৬ লাখ ৮০ হাজার। এর আগে বিভিন্ন সময় সেনাবাহিনী ও উগ্র-বৌদ্ধদের নির্যাতনে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়ে আছে ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা।   

আন্তর্জাতিক চাপ জোরালো হওয়ার একপর্যায়ে প্রত্যাবাসন চুক্তিতে বাধ্য হয় মিয়ানমার। তবে সেই  চুক্তির পর বেশ খানিকটা সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও ধোঁয়াশা কাটছে না। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৮ হাজার রোহিঙ্গার নাম প্রস্তাব করা হলেও মাত্র ৬০০ জনকে ফেরত নিতে চেয়েছে মিয়ানমার। এরমধ্যেই গত ৬ জুন প্রত্যাবাসন প্রশ্নে জাতিসংঘ ও মিয়ানমারের মধ্যে সমঝোতা চুক্তিটি স্বাক্ষর হয়। সেখানেও নাগরিকত্ব প্রশ্নটির সমাধান না থাকায় অনিশ্চয়তায় রয়েছে রোহিঙ্গারা। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য জরুরি সহায়তার আবেদন জানানো হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) বিশ্ব ব্যাংক জানায়, তাঁরা রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশকে ৪৮ কোটি ডলার অপরিশোধযোগ্য অনুদান দেবে। এর মধ্যে ৫ কোটি ডলার (৪২২ কোটি টাকা) ব্যয় করা হবে বিদ্যমান স্বাস্থ্য সহায়তা প্রকল্পে। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দকৃত এ অনুদান দেওয়া হচ্ছে কানাডা ও বিশ্ব ব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা (আইডিএ) শাখার যৌথ উদ্যোগে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদেরকে মাতৃত্বকালীন, নবজাতক-শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্যসেবা, প্রজননজনিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরিবার পরিকল্পনায় সহায়তা দেওয়া হবে।

এক বিবৃতিতে বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট কিম বলেন, “রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ দেখে আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি এবং তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে সহায়তা দিতে আমরা প্রস্তুত আছি।”    

বিশ্ব ব্যাংকের আশঙ্কা, বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ভূমিধসের কারণে রোহিঙ্গারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে। পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবে তারা। রোহিঙ্গা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আগামী ১-২ জুলাই বাংলাদেশ সফর করবেন বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম ও জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। 

এমবি