জন্মাষ্টামি ছুটিসহ তিনদিনের সরকারি ছুটিতে কুয়াকাটা সৈকতে এবার পর্যটকদের ঢল নেমেছে। পর্যকটদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠছে সৈকতসহ দর্শণীয় স্থান।
সমুদ্রের তরঙ্গেও সাথে নেঁচে গেয়ে উল্লাস করছেন তারা। আগনিত পর্যটক আসার কারণ হিসেবে কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল মোটেল ব্যবসায়ীরা দেখছেন দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সড়ক পথে ভাল যোগাযোগ, আবহাওয়ায় অনুকুল অবস্থা, ফেরিপারাপারে দূর্ভোগ লাগব এবং সর্বপরি দেশ পর্যটকরা লম্বা ছুটিকে ভ্রমনের কাজে লাগাবে বলে এমন ধারনা করেছেন তারা ।
আবাসিক হোটেল মোটেল সুত্র জানিয়েছে, জন্মাষ্টামির একদিনের ছুটির সাথে শুক্রবার ও শনিবারের ছুটি যোগ হওয়ায় অবসর সময় উপভোগ করতে আগাম বুকিং দিয়ে অগনিত পর্যটকদের কুয়াকাটায় সমাগম ঘটেছে। এমনকি সরকারী বেসরকারী একাধিক হোটেল চলতি সপ্তাহ জুড়ে আগাম বুকিং দেয়া রয়েছে।
বুকিং’র ক্ষেত্রে আভিজাত হোটেলের মধ্যে এগিয়ে রয়েছে কুয়াকাটা ইন্টারন্যাশনাল ,কুয়াকাটা গেষ্ট হাউস, বনানী প্যালেস, মোহনা, বীচ হ্যাভেন, নীলাঞ্জনা, স্কাই প্যালেস, গ্রেভার ইন, বিশ্বাস সী-প্যালেস, সী-ভিউ। পিছিয়ে নেই সরকারী ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত সরকারী বাংলোগুলো।
এসবের মধ্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাংলো ধানসিড়ি, জেলা পরিষদের বাংলো, এলজিইডি ও বিটিসিএল বাংলো ঈদ পরবর্তী এক সপ্তাহের আগাম বুকিং রয়েছে।
পর্যটকদের সেবা দানে প্রস্তুতি নিয়ে বসে রয়েছে সৈকতের বেঞ্চ ব্যবসায়ী, অর্ধশতাধিক ক্যামারাম্যান, দর্শনীয় স্থানে দ্রুত পর্যটকদের বহনের জন্য ভাড়ায় চালিত শতাধিক মোটর সাইকেল চালক ও টুরিষ্ট গাইড, পর্যটকবাহী টুরিষ্ট বোট, কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে সৈকত পর্যন্ত রাস্তার দুই ধারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী মালামালের পসরা সাজিয়ে রেখেছে দোকানীরা,
খাবার হোটেল ব্যবসায়ীরাও দীর্ঘদিন অলস সময় পাড় করার পর চুনকাম সেরে মাছ মাংস সংগ্রহে নেমেছে। কলাপাড়া-কুয়াকাটা সড়কের তিনটি সেতু এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হওয়ায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
এসব বিষয় সৈকতে বেঞ্চ ও ছাতা ব্যবসায়ী নুর হোসেন বলেন, এ মৌসুমে বিগত বছর গুলোতে তেমন পর্যটক দেখা মিলতো না সৈকতে।
পরে কথা হয় সৈকতে পর্যটকদের ছবি তুলে তাৎক্ষনিক সরবারহের কাজে নিয়োজিত ফটোগ্রাফার্স বাশারের সাথে।
তিনি বলেন, বর্ষায় পর্যটকরা একত্রে দুটি উপভোগ করতে পারবে । সমুদ্র এবং তার ঊচ্ছলতা। তার ভাষায় এবছর এ পেশায় অধিক লাভবান হবার আশায় অনেই নামীদামী ব্যান্ডের ক্যামেরা কিনে অনেকেই নতুন করে এ পেশায় এসেছে।
দর্শনীয় স্থান লেম্বুর চর. ঝাউবন, ফাতরারবন, শালবন, নারিকেল বাগান, সীমা বৌদ্ধ মান্দির, শ্রী-মঙ্গল বৌদ্ধ বিহার,রাখাইন পল্লী মিশ্রিপাড়া, গোড়াআমখোলা পাড়া, গঙ্গামতি ও কাউয়ারচর, সাবমেরিন ল্যান্ডিং ষ্টেশন,পায়রা বন্দরসহ একাধিক দর্শনীয়স্থানে দ্রুত নিয়ে যাওয়া ও গন্তব্যে নিয়ে আসা টুরিষ্ট গাইড ও মোটর সাইকেল চালক ইমরান জানান, জন্মাষ্টামির বন্ধে হাজার হাজার দেশী –বিদেশী পর্যটক কুয়াকাটা সৈকতে ভীড় করেছে। এরফলে অর্ধশতাধিক ভাড়ায় চালিত মোটর বাইক চালকদের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
কুয়াকাটায় বে-সরকারী ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ীদের সংগঠন ’হোটেল মোটেল ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন’র সাধারন সম্পাদক ও কুয়াকাটা গেষ্ট হাউসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোতালেব শরীফ বলেন, ভবিষ্যতে পর্যটক ব্যবসায়ীদের জন্য সিজন অফ
সিজন বলতে কিছুই থাকবেনা । পুরো বছর জুড়ে পর্যটকদের উপস্থিতি থাকবে কুয়াকাটায়।
বাংলাদেশ পর্যটক করপোরেশনের ব্যবস্থানায় কুয়াকাটায় পরিচালিত আবাসিক হোটেল হলিডে হোমস ও যুবপাস্থ নিবাসের ইউনিট ব্যবস্থাপক জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে তাদের শতভাগ রুম বুকিং রয়েছে।
এখন কুয়াকাটায় সভা সমাবেশ করার জন্য সরকারি বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ভেন্যূ হিসেবে ব্যবহার করছে।
আমির/এসএম





