কক্সবাজারের উখিয়ার সংরক্ষিত ও রক্ষিত বনসম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি সুযোগ সুবিধা ভোগকারী বনরেঞ্জ ও বনবিটের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা, কর্মচারীর অঘোষিত নির্দেশ থাকার কারণে পাহাড় কেটে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের ন্যায় পরিবেশ বিরোধী কর্মকান্ড ঠেকানো যাচ্ছে না।

অবৈধ করাতকলের কারণে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বনভূমি রক্ষায় সরকার কঠোর পদক্ষেপ না নিলে সরকারি বনভূমি বিলুপ্ত হয়ে লোকলয়ে পরিণত হওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয় পরিবেশবাদী সচেতন মহল।

উপজেলা বনরেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, ইনানী ও উখিয়া সদর বনরেঞ্জের আওতায় ১৩টি বনবিট কার্যালয়ের অধীনে প্রায় ৪০ হাজার একর বনভূমির তথ্য কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ থাকলেও বাস্তবে তার অস্তিত্ব নেই। উপকুলের সাগরঘেঁষা দোছরী বিটের দুই-তৃতীয়াংশ বনভূমি এখন বেদখলে রয়েছে দাবী করে পরিবেশবাদী সংগঠন হেলপ কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক মোঃ আবুল কাশেম জানান, এখানে সামাজিক বনায়নের জমি দখল করে গড়ে উঠেছে প্রায় হাজারেরও অধিক অবৈধ স্থাপনা। দোছরী বনবিট অফিসের আশেপাশে গড়ে উঠেছে ব্যক্তিমালিকানাধীন শাকসবজি, ফসলী জমি ও ঘরবাড়ি। বনবিটের দায়িত্বে নিয়োজিত আমির হোছন গজনবীর বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক অভিযোগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামবাসী জানায়, আলোচিত ওই বনবিট কর্মকর্তার নির্দেশে পাহাড় কাটা ও বনভূমি দখল চলছে। বনবিটের হেডম্যান, ভিলেজারদের অভিযোগ, বনবিট কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগীতার কারণে বনভূমি দখলকারী সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

পাহাড় কেটে মাটি পাচার, সামাজিক বনায়নের গাছ লুটপাট সহ নানা অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগে ইতিপূর্বে উখিয়া বনরেঞ্জ কর্মকর্তা ইব্রাহিম মিয়া, সদর বনবিট কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক ও উখিয়ার ঘাট বনবিট কর্মকর্তা শাহজাহান সহ ৩ বন কর্মকর্তাকে সাময়িক চাকুরী থেকে বরখাস্ত করা হলেও অসাধু বনবিট কর্মকর্তাদের অনৈতিক তৎপরতা বন্ধ হয়নি। সরেজমিন উখিয়ার ঘাট বনবিটের আওতাধীন বালুখালী পানবাজার এলাকা ঘুরে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, এলাকার একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু বনভূমির পাহাড় কেটে পাকা স্থাপনা তৈরি করছে। জানতে চাওয়া হলে বনবিট কর্মকর্তা মোবারক আলী পাহাড় কর্তনের কথা স্বীকার করলেও ঘটনাটি রহস্যজনকভাবে এড়িয়ে গেছে।

এ ঘটনা নিয়ে কক্সবাজার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আলী কবিরের সাথে মুঠোফোনে আলাপ করা হলে তিনিও গুরুত্ব দেননি। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক সর্দার শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল ঘটনাস্থল বালুখালী পানবাজার এলাকা পরিদর্শন করলেও অজ্ঞাত কারণবশত বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্য দিবালোকে পাহাড় কেটে পাকা স্থাপনা তৈরিতে বাঁধা বিপত্তি না আসার কারণে জবর দখলকারী চক্রকে আরো উৎসাহিত করা হয়েছে।

এদিকে মোছারখোলা বনবিটের অধীনে শত শত একর বনভূমি দখল করে হাজারেরও অধিক স্থাপনা নির্মাণ সহ পাহাড় কেটে মাটি পাচার সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বনবিট অফিসে গিয়ে বিট কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে ওই বনবিট কর্মকর্তা মাসুদ সরকার কোন সদোত্তর দিতে পারেনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই বনবিট কর্মকর্তার নানা অনিয়ম, দুর্নীতির ব্যাপারে ইতিপূর্বে থানা ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে। এ নিয়ে আলাপ করার জন্য গতকাল বুধবার উখিয়া রেঞ্জ অফিসে গিয়ে রেঞ্জ কর্মকতা মোঃ মনিরুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। সদর বনবিট কর্মকর্তা মোজাহেরুল ইসলাম জানান, রেঞ্জ কর্মকর্তা ছুটিতে রয়েছেন। কক্সবাজার পরিবেশ অধিপ্তরের সহকারি পরিচালক সর্দার শরিফুল ইসলাম বালুখালী পানবাজার এলাকায় পাহাড় কাটার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নুরুল আমিন ছিদ্দিকী প্রদত্ত অভিযোগে পাহাড় কাটার সাথে সম্পৃক্ত প্রকৃত অপরাধীর নাম আসেনি। তাই বিষয়টি আরো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমএম